সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে উদ্যোক্তার সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে উদ্যোক্তার সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ৪১৫তম সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাব মঙ্গলবার গ্রামীণ ব্যাংক অডিটোরিয়াম কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫৫ জন অংশগ্রহণকারী এই ল্যাবে যোগ দেন। ডিজাইন ল্যাবে সভাপতিত্ব করেন নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। জানুয়ারী ২০১৩-এ ডিজাইন ল্যাব শুরু হবার পর ৪১৪তম ল্যাব পর্যন্ত ১০,১৮১টির বেশী প্রকল্প ডিজাইন ল্যাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাদের মধ্যে ১০,১৫৬টি প্রকল্প মূলধনী বিনিয়োগের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
এসকল নবীন উদ্যোক্তা প্রকল্পে অনুমোদিত ইক্যুইটি ফান্ডের পরিমাণ প্রকল্প প্রতি ১.০ থেকে ৫.০ লক্ষ টাকা। আজকের ডিজাইন ল্যাব ১০,০০০ নবীন উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের মাইলফলক অতিক্রম করলো।
মঙ্গলবার ডিজাইন ল্যাবে ৫টি নতুন “নবীন উদ্যোক্তা” ব্যবসা পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। উপস্থাপিত ব্যবসাগুলোর উদ্যোক্তাদের সকলেই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা পরিবারের সন্তান। উপস্থাপিত ৫টি ব্যবসার মধ্যে একটি হচ্ছে পুতুল রানীর “পুতুল কুটির শিল্প”। পুতুল রানী ১৫ বছর যাবত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করে আসছেন। মোঃ জুয়েল হোসেন উপস্থাপন করেন তাঁর “রশীদ সাইকেল স্টোর” প্রকল্প। রশীদ সাইকেল মেরামতে দক্ষ এবং তিনি তাঁর দক্ষতা ব্যবহার করে নিজেই উদ্যোক্তা হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শ্রীমতি রীনা রানী রায় উপস্থাপন করেন তাঁর “প্রকৃতি বিউটি পার্লার” প্রকল্প। এক সন্তানের জননী রীনা রানী একজন প্রশিক্ষিত বিউটিশিয়ান যিনি একজন আত্মনির্ভর উদ্যোক্তা হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অপর দু’টি প্রকল্পের একটি হচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা নূর মোহাম্মদের “তানভীর গার্মেন্টস” এবং মোছাম্মৎ শাহিনা বেগমের “সৌরভ টেইলার্স এন্ড কসমেটিক্স”।
মঙ্গলবারের ডিজাইন ল্যাবে একটি উন্মুক্ত সামাজিক ব্যবসা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ অ্যালায়েন্সের সজীব এম খাইরুল ইসলাম “ওয়াইসি ওয়াটারস্প্রিন্টঃ এ সোশ্যাল বিজনেস এনশিউরিং অ্যাকসেস টু সেফ ড্রিংকিং ওয়াটার ফর অল” নামের প্রকল্পটি উপস্থাপন করেন।
এই প্রকল্পটি একটি সুইডিশ টেস্ট ইউভি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদীর পানিকে বিশুদ্ধ করে পানযোগ্য করবে। প্রযুক্তিটি এখন মানিকগঞ্জে ফিল্ড টেস্ট করা হচ্ছে। সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ অ্যালায়েন্স গ্লোবাল ও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। নবীন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাগুলো বিশদ উপস্থাপনা করা হয় এবং এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এরপর প্রকল্পগুলো অধিকতর পর্যালোচনার জন্য দলীয় পর্যায়ে উপস্থাপনা করা হয়। উপস্থাপিত প্রতিটি প্রকল্পই স্ব-স্ব দল কর্তৃক অর্থায়নের জন্য অনুমোদিত হয়। গ্রামীণের সামাজিক ব্যবসা তহবিলের সাথে যৌথ-মূলধনী ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত এই সামাজিক ব্যবসা প্রকল্পগুলো www.sociabusinesspedia.com –এ মনিটর করা হবে।
ডিজাইন ল্যাবের শেষদিকে ৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ইউনূস সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, কিংস কলেজ নেপাল ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর সাথে ইউনূস সেন্টারের ৩টি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এই তিনটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকেই স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে ইউনূস সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে এবং তাদের কারিক্যুলাম ও কোর্সে সামাজিক ব্যবসাকে অন্তর্ভূক্ত করবে।
এছাড়াও রাঙামাটিতে নিরাপদ পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ও আশিকার মধ্যে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। প্রফেসর ইউনূস ডিজাইন ল্যাবে যোগদানের জন্য অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে যোগদান করতে তাঁদের আমন্ত্রণ জানান।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ২১-১১-২০১৬ ইং / মো: হাছিব