বাজেট বাস্তবায়নে এনবিআর চেয়ারম্যানের ১০ নির্দেশনা
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট,
করদাতা ও অংশীজনদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মকর্তাদের ১০টি নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১৯তম বাজেট বাস্তবায়ন ফোরামে সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ার সময় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনাগুলো হলো- নতুন প্রজন্ম, করদাতা, অংশীজন ও জনগণকে এনবিআরের অর্জন সর্ম্পকে জানানো ও আসন্ন উন্নয়ন মেলায় কার্যকর অংশগ্রহণ। নতুন ও শক্তিশালী এনবিআর গঠনে কর্মকর্তাদের সৃজনশীলতার সঙ্গে কাজ করা। সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমান কাতারে কাজ করা। তবে সব প্রতিষ্ঠানের প্রথমে যেন এনবিআর থাকে। স্টেকহোল্ডার ও অংশীজনদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) ডিজিটাল করা। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী সব কর্মকর্তার সাপ্তাহিক প্রতিবেদন পেশ করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন সম্পর্কে পাক্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা। অংশীজনদের নিয়ে ডায়ালগ করা। কাস্টমস ও আয়কর কমিশনারদের যৌথ জরিপ করা এবং এনবিআরের সব কাজ ডিজিটালাইজড করা ও জোরালো মনিটরিং করা।
বাজেট বাস্তবায়ন ফোরামে শক্তিশালী গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগ, সক্ষম ও শক্তিশালী এনবিআর গঠনে জোর দেওয়া হয়।
সভায় বলা হয়, এনবিআরের করদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের প্রতি আস্থা বাড়ছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরে গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সারে ৩ লাখ বেশি আয়কর রিটার্ন জমা হয়েছে,যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ইতিহাসে রিটার্ন দাখিলে প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড। প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশের বেশি।
সভায় বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ৬ লাখ নতুন করদাতা নিবন্ধন গ্রহণ করেছেন। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮১ অতিক্রম করেছে। এনবিআর আশা করছে, বছর শেষে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখ অতিক্রম করবে।
সভায় করদাতাবান্ধব, ডিজিটাল ও আধুনিক এনবিআর গঠনের জন্য গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সক্ষম ও শক্তিশালী এনবিআর গঠনে আইন, নিরাপত্তা, মিডিয়া ও জনসংযোগ অনুবিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, এখনো এগিয়ে নিচ্ছেন।
এ সময় তিনি কাস্টমস ও আয়কর কমিশনারদের যৌথ জরিপ করার মাধ্যমে ই-টিআইএন ও বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টটিফিকেশন নম্বর) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
আয়কর মেলা, আয়কর দিবস ও ভ্যাট দিবস সফলভাবে সম্পন্ন এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতিতে কর্মকর্তাদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে মো. নজিবুর রহমান বলেন, ভ্যাট সম্পর্কে সম্মানিত নাগরিক, ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সচেতন করা জন্য অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে আগামী জানুয়ারি মাসে সিলেট বিভাগে জমকালো আয়োজনে বর্ণাঢ্য মডেল ভ্যাট মেলা করা হবে। মেলায় ব্যবসায়ী, অংশীজন ও সাধারণ মানুষ ভ্যাটের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবেন।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ২০- ১২-২০১৬ ইং / মো: হাছিব