কাল প্রথম হজ ফ্লাইট: হজক্যাম্পের বাইরে ছিনতাইকারী চক্র

হজ যাত্রী আর তাদের আত্মীয়স্বজনদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে বিমানবন্দর সংলগ্ন আশকোনা হজক্যাম্প। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, হজ ক্যাম্পের ভেতরের পরিবেশ খুব ভালো হলেও বাইরের পুরো এলাকা অরক্ষিত। সন্ধ্যার পর বিমানবন্দর চৌরাস্তা থেকে হজক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তায় কোনো টহল পুলিশ থাকে না। একারণে হজযাত্রী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে অভিযোগ করেছেন, বেশিরভাগ হজ যাত্রী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে এই সময় নগদ টাকা থাকে। এই সুযোগে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র। এদের অধিকাংশই বিমান বন্দরে চোরকারবারীর সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের বক্তব্য-হজক্যাম্প ঘিরে বিমান বন্দর এলাকার এখন শ্যামল বাহিনী, জসিম বাহিনী ও ইয়াসিন বাহিনী ব্যাপকহারে ছিনতাই শুরু করেছে। এদের টার্গেট হজযাত্রী ও তাদের আত্মীয়স্বজন। দুর্নীতিবাজ কতিপয় পুলিশের সঙ্গে যোগসাজসে এই বাহিনীর সদস্যরা এই এলাকায় এখন বেপোরোয়া ছিনতাই আর চাঁদাবাজি শুরু করেছে।
পুলিশ বলছে, এই চক্রের অধিকাংশ সরকার দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মী। এদের মধ্যে বদরুল আলম শ্যামল, ফখরুল আল প্রিন্স, সহিদুল ইসলাম অপু, আসাদ, হাদীস উল্লাহ, ইয়াসিন, আলম দক্ষিন খান এলাকার স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। প্রতিবছর হজক্যাম্পকে ঘিরে এরা লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করে থাকে। এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দরাও হজ যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাফেরার স্বার্থে এসব সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে পুলিশ বলছে, হজক্যাম্পকে ঘিরে ও হাজীদের আনা নেয়ার সময় পুলিশের স্কট থাকবে। কাজেই ছিনতাইয়ের কোনো ভয় নাই। শনিবার আশকোনাস্থ হজক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে সর্বত্র হজযাত্রী ও তাদের পদচারণা। একের পর এক হজযাত্রী আসছেন। সাথে থাকছে লাগেজপত্র। সরকারি হজযাত্রীদের মালামাল পরিবহনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি করে বড় লাগেজ দেয়া হচ্ছে। হজ যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ বিমান বড় ধরনের অনুসন্ধান রুম চালু করেছে। যদিও হজ কর্তৃপক্ষ বলছে- ওই রুমের কোনো বৈধতা নেই। অবৈধভাবে বিমান রুমটি তৈরি করেছে। এই রুম থেকে বিমানের হজ যাত্রীদের সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো বিআরবি ক্যাবল হজ যাত্রীদের সুবিধার্থে ফ্রি টেলিফোন সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়া হজ যাত্রীদের আনা নেয়া করার জন্য থাকছে ফ্রি বাস সার্ভিস। রোভার স্কাউট, আঞ্জুমান ই খাদেমুল হজ বাংলাদেশ হজ যাত্রীদের ফ্রি মেডিক্যাল সার্ভিস দিচ্ছে। হামদর্দ বিমানামূল্যে স্বাস্থসেবা ও শরবতের ব্যবস্থা করছে। হজ ক্যাম্পের ভিতর বেশ কয়েকটি হোটেল অপক্ষোকৃত কমমূল্যে খাবারের সুবিধা দিচ্ছে। এরমধ্যে ঘরোয়া ও সোনালী হোটেলের খাবারের দাম অপেক্ষাকৃত কম ও ভাল মানের। হজ ক্যাম্পের দ্বিতীয় তলায় ফ্রি পার্সপোর্ট এনড্রোমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রয় ও হজ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন অফিস রুম রযেছে। বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির জন্য শাখা খুলেছে সোনালী, জনতা, অগ্রনী, কৃষি, ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যংক, ব্যাংক এশিয়া। মহিলাদের নামাজের জন্য আছে আলাদা মসজিদের ব্যবস্থা। হজ যাত্রীদের থাকার জন্য আছে ডরমেটরি। দূর দূরাতন্ত থেকে আসা হজ যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের থাকার জন্য নিচ তলায় ব্যবস্থা আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে হজ ক্যাম্পে খোলা হয়েছে বড় আকারের স্বাস্থ্য ক্যাম্প। এই ক্যাম্পে সার্বক্ষনিক ডাক্তার ও নার্স কাজ করছেন। এখানে টিকাসহ ফ্রি ওষুধ দেয়া হয়।
আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজ-যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবে বিমানের প্রথম ফ্লাইট। একই দিনে হজ ফ্লাইট বিজি-৩০১১ দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন, বিজি-৫০১১ রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন এবং শেড্যুল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে। এবছর প্রত্যেক হজযাত্রী বিনামূল্যে সর্বাধিক ২ পিস ৩২ কেজি মালামাল বিমানে ও বিজনেস ক্লাসের জন্য সর্বাধিক ২ পিস ৪২ কেজি এবং কেবিন ব্যাগেজে ৭ কেজি মালামাল সঙ্গে নিতে পারবেন। কোন অবস্থাতেই প্রতি পিস ব্যাগেজ এর ওজন ২৫ কেজি এর বেশি হতে পারবে না। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং হাজী সাহেবানরা ঢাকা ফেরৎ আসার পর তাদেরকে তা প্রদান করা হবে। হাজী সাহেবানরা সাথে করে বিমানে পানি বহন করতে পারবেন না। যে কোন ধারালো বস্তু যেমন ছুরি, কাঁচি, নেইল কাটার, ধাতব নির্মিত দাঁত খিলন, কান পরিষ্কারক, তাবিজ ও গ্যাস জাতীয় বস্তু যেমন এ্যারোসল এবং ১০০ এম এল এর বেশী তরল পদার্থ হ্যান্ড ব্যাগেজে বহন করা যাবে না।
হজ ক্যাম্পের আইটি বিভাগের রেজাউল করিম যুগান্তরকে জানান, এবছর সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে হজ যাত্রীদের ভিসা পেতে কিছুটা সময় লাগছে। এছাড়া আর কোন সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, এবারই প্রথম হজ যাত্রীদের বাসের টিকিট পাসপোর্টের সঙ্গে স্টিকার আকারে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে একজন হাজীর পাসপোর্ট, ইন্টারনাল বাস টিকিট, বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গীক সব কাগজপত্রসহ নাম পাঠানোর পর তারা সেটা সেখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেই কেবল হজযাত্রীদের জন্য ভিসা ইস্যু করে। অন্যথা ভিসা ইস্যু করতে সময় লাগে। একারণে এবার ভিসা পেতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।