বেতন বাড়িয়ে সরকারের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না : ন্যাপ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।
বুধবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘শুধু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আর মন্ত্রী-সংসদদের বেতন বাড়িয়ে অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার যে স্বপ্ন দেখছেন তা পূরণ হবে না।’
নেতৃদ্বয় বলেন, ‘ইতিহাস প্রমান করে পৃথিবীর সকল স্বৈরশাসকই মনে করতো জনগণ নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আর দলীয় সদস্যরাই সরকারকে রক্ষা করবে। কিন্তু, সত্য হলো জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে পৃথিবীর কোন স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতি কখনো সুখকর হয় নাই।’
সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদের সভায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, ও সংসদ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন ন্যাপ নেতারা।
তারা বলেন, ‘অল্প কিছুদিন আগে দেশের কমবেশি ২১ লাখ কর্মচারীর বেতনও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২১ লাখের সঙ্গে এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, স্পিকার, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য মিলে সংখ্যাটি খুব সামান্যই বড় হবে। অন্যদিকে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি। এদের মধ্যে উপার্জনক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৮ থেকে ৬০ ভাগ। তারপরও উপার্জনে অক্ষম সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৯ থেকে ১০ কোটি। আর বেতন বাড়ল মাত্র ২১ লাখ মানুষ ও তাদের সঙ্গে আরো কিছু মানুষের। ফলে প্রমাণিত হলো আমরা আম জনতা অভাগা।’
বিবৃতিতে ন্যাপের শীর্ষ নেতৃৃদ্বয় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নিজের বা নিজের পরিবারের জন্য কিছু করেন না, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। কিন্তু বাংলা নববর্ষ উপলক্ষেও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বোনাসের ব্যবস্থা কি আসলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য প্রমান করছে না? সরকারের কর্মকা-ে জনতা আর আমজনতা- এই দুই ভাগে দেশের জনগণ বিভক্ত হচ্ছে না?’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তারা বলেন, ‘আপনি দেশের সকল জনগণের প্রধানমন্ত্রী। এই জনগণকে দুই ভাগে ভাগ করে একভাগের প্রধানমন্ত্রী হবেন না। শুধু যেন সরকারি জনগনের বেতন বৃদ্ধি না পায়, সাধারণ মানুষের বেতনও যেন বৃদ্ধি পায়।