নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার চার্জশিটে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে : হাইকোর্ট

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার চার্জশিটে (অভিযোগপত্রে) মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।
মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই মন্তব্য করেন।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারক বলেন, সাত খুন মামলার অভিযোগপত্র আমি পর্যালোচনা করে দেখেছি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে আমার মনে হয়েছে এতে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। আবেদনকারীর আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, আমি ত্রুটির বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করব না। আপনারা অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করুন। পর্যালোচনা করে ত্রুটির বিষয়টি বের করুন। এরপর আবেদনকারীর আইনজীবীর সময় বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।
গত ২৮ এপ্রিল র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। পরে সাত খুন মামলার বাদী কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি অভিযোগপত্রের বিষয়ে বিচারিক আদালতে একটি নারাজি আবেদন করেন। গত ৯ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ নারাজি আবেদন খারিজ করেন। বিচারিক আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে এবং মামলাটির অধিকতর তদন্ত চেয়ে ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি ‘ক্রিমিনাল রিভিশন’ আবেদন করেন। যার ওপর ২৯ নভেম্বর শুনানি শুরু হয়।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ও অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবির।
গত বছরের ২৭ এপ্রিল দুপুরে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহরণ করা হয়। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে অপরজনের লাশ পাওয়া যায়। নিহত অপর পাঁচজন হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।