মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

কুনিও হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি সরবরাহ করেন জেএমবির ইসাহাক

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৫৭ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

dig-rangpur
রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে যে পিস্তল দিয়ে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা গুলি করে হত্যা করেন, তা জেএমবি সদস্য ইসাহাক আলী সরবরাহ করেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবীর কুনিও হত্যা মামলায় বিচারকের কাছে দেওয়া ইসাহাকের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ডিআইজি হুমায়ুন কবীর বলেন, কুনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, যাদের সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। তাদেরই একজন জেএমবির এহসার সদস্য ইসাহাক আলী। তিনি আরো বলেন, কুনিওকে হত্যায় যে পিস্তলটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা সরবরাহ করেন ইসাহাক আলী। সেই পিস্তল দিয়ে কুনিওকে গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। তার সঙ্গে ছিলেন ইউনিট কমান্ডার খয়বর হোসেন।

ডিআইজি হুমায়ুন জানান জানান, গতকাল সোমবার রাতে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শফিউল আলমের কাছে এই জেএমবি সদস্য ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কুনিও হত্যার সঙ্গে মাসুদ রানা, ইসাহাক ও খয়বর হোসেনই জড়িত বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

সাংবাদিকদের এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ইসাহাক। ২০০৫-০৬ সালে ইসাহাক ইরাক থেকে অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ নেন। সে সময় ইসাহাকের বড় ভাই জেএমবির পীরগাছা-কাউনিয়া অঞ্চলের কমান্ডার ইনসাফ আলীর কাছে জেএমবির শিক্ষা নেন মাসুদ রানা।

তিনি আরো বলেন, ইরাক থেকে দেশে ফেরার পর তার ভাই ইনসাফ আলী জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডারের দায়িত্ব মাসুদ রানার ওপর ছেড়ে দিয়ে লিবিয়ায় চলে যান। সেখানে ইনসাফ মারা যান বলে তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে। এরপর মাসুদের নেতৃত্বে জেএমবিতে সক্রিয় হন ইসাহাক।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর সকালে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে রিকশায় করে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে নিজের ঘাসের খামারে যাওয়ার পথে ৬৬ বছরের কুনিওকে গুলি করে হত্যা করে তিন মোটরসাইকেল আরোহী। পরে এ ঘটনায় ৩ ডিসেম্বর মাসুদকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এ সময় মাসুদের বাড়ির পুকুর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা গ্রেনেড তৈরির ৫০টি লোহার কৌটা এবং তিনটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। পরে কুনিও হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে ৭ ডিসেম্বর কুনিও হত্যায় দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেন মাসুদ। জবানবন্দিতে তিনি কুনিও হোশিকে গুলি করার কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়াও ৮ ডিসেম্বর রাতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার বাড়ি থেকে ইসাহাক আলীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকেও কুনিও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তা ছাড়াও সর্বশেষ একই এলাকা থেকে ১১ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির পীরগাছা উপজেলা ইউনিট কমান্ডার খয়বর হোসেনকে।