জালিয়াতির মামলায় হল-মার্ক গ্রুপের জেসমিন-তানভীরের বিচার শুরু
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় হল-মার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদের বিচার শুরু হয়েছে।
এ কেলেংকারির ঘটনায় দায়ের হওয়া ১১টির মধ্যে বুধবার দুইটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ এ দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণে জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল ইসলাম মোল্লা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন। এছাড়া অন্য নয়টি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য একই দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের বিশেষ পিপি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, এ মামলা দুটির একটিতে আসামি ১৮ জন ও অন্যটিতে ১৯ জন।
নয়টি মামলার আসামি তুষারের পক্ষে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন শুনানির অপেক্ষায় থাকায় ওই মামলাগুলোতে অভিযোগ গঠন করা যায়নি।
আসামিদের পক্ষে আদালতে অব্যাহতির আবেদন করেন অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজি।
এর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫-এর(২) ধারায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪(২) ধারায় ও দন্ডবধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ১১৯ ধারায় অভিযোগ পড়ে শোনালে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এ সময় জামিনে থাকা আসামি গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম ও ডিএমডি আতিকুর রহমান (বর্তমানে ওএসডি) হাজির ছিলেন।
মামলার অন্য আসামি প্রতিষ্ঠানটির মালিক তানভীর মাহমুদ, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম মীর মহিদুর রহমান, দুই উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ আলতাফ হোসেন (সাময়িক বরখাস্ত) ও মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ (সাময়িক বরখাস্ত) কারাগারে আছেন। তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ মামলায় কারাগারে থাকাবস্থায় হার্ট এটাক করে মারা গেছেন সোনালী ব্যাংক হোটেল রূপসী বাংলা শাখার ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমান। অন্যরা পলাতক।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৪ আগষ্ট রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার শর্তে ১১টি মামলায় জেসমিন ইসলামকে জামিন মঞ্জুর করেন তৎকালীন সিনিয়র বিশেষ জজ জহুরুল হক।
২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর একই আদালত ১১টি মামলায় পলাতক ১৭ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে পত্রিকায় আসামিদের পলাতক দেখিয়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
হল-মার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেংকারির এ ঘটনায় দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এ মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) হোটেল শাখা থেকে হল-মার্ক মোট দুই হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।