মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

নিহত তামিমের লাশ নিতে চান না তার গ্রামের লোকজন

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৩ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ  রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ তামিম আহমদ চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি শনিবার ‘অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭’ এ নিহত হয়েছেন।

তামিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রামে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত তামিম চৌধুরীর লাশ নিতে চান না বিয়ানীবাজারে তার গ্রামের লোকজন। এই মনোভাব গ্রামের লোকজনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করেছেন তামিমের গ্রামের বাসিন্দা ও বিয়ানীবাজারের দুবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ।

শনিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ তামিমের মৃত্যু নিয়ে শোকাহত নয়। তার মৃত্যুতে কারো কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমাদের গ্রামের মানুষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস- এসবের বিরুদ্ধে। তামিমের মতো জঙ্গির লাশ আনতে কেউ যাবে না।

বিয়ানীবাজারে গ্রামের বাড়ি হলেও তামিমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডায়। মা, বাবা, ভাই ও একমাত্র বোনের সঙ্গে মাত্র একবারের জন্য দেশে এসেছিলেন তামিম। ২০০১ সালে তাদের সেই সফরে গ্রামের বাড়িতে যাননি কেউই। সিলেট নগরীতে বাসা ভাড়া করে ৩ মাস থেকেছেন তারা। তারপর আবার ফিরে যান কানাডায়।

তামিম আহমদ চৌধুরীর বাবা শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশের স্বাধীনতার আগে চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সপরিবার কানাডায় পাড়ি জমান। এরপর তারা দেশে তেমন আসেননি। গ্রামের বাড়ির কারো সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।

তামিম চৌধুরী নিহত হলেও এ নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই তার গ্রামের বাড়ির স্বজনদের। তামিমের চাচা নজরুল ইসলাম গত রোববার মারা গেছেন। এ নিয়েই তার গ্রামের বাড়ির স্বজনরা বেশি ব্যথিত। অন্যকিছু নিয়ে তাদের ভাবনা নেই।

তামিমের চাচাতো ভাই ফাহিম আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘গত রোববার বাবা (নজরুল ইসলাম) মারা গেছেন। পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবাই এজন্য শোকাহত। তামিমের মতো জঙ্গির মৃত্যু নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তার সঙ্গে আমাদের কারো যোগাযোগও ছিল না।’

এদিকে তামিম চৌধুরী প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য তার ইউনিয়নের (দুবাগ) চেয়ারম্যান আবদুস সালামের ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তামিম আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পাসপোর্ট নম্বর এএফ ২৮৩৭০৭৬।

কানাডার উইন্ডসরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিন সন্তানের জনক তামিম আহমদ চৌধুরী। ২০১৩ সালে হঠাৎ করে কানাডা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। সেখান তিনি আইএস-এ যোগ দেন বলে ধারণা করা হয়।