জঙ্গি তামিমদের টার্গেট ছিলো ওরা নিজেরাও মরবে, পুলিশকেও মারবে
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ আমরা জঙ্গিদের পাশের ভবনে অবস্থান নিয়েছিলাম। সোয়াতসহ অন্যান্য পুলিশের সঙ্গে আমরাও পুরো ভবনটি কর্ডন করে রাখি। ওরা দু’টি গ্রেনেডও বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলো। তাদের টার্গেট ছিলো ওরা নিজেরা মরবে, পুলিশকেও মারবে। আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই জঙ্গি তামিম ও তার সহযোগীদের ফিনিশ করতে পেরেছি।’
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় রাজধানীর গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে এভাবেই বাংলানিউজের কাছে অপারেশন ‘হিট স্ট্রং ২৭’ সম্পর্কে বর্ণনা দেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজামুল হক।
শনিবার সকালে এ অভিযানে পুলিশের বিশেষ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে সহায়তা করেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের টিমে ছিলেন নিজামুলসহ চার উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও ১০ জন কনস্টেবল।
নিজামুল হক বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীকে জীবিত ধরার টার্গেট ছিলো। কিন্তু অভিযান শুরু হওয়ার পর পরই জঙ্গিরা গুলি ছুড়তে শুরু করেন। বিপজ্জনক জঙ্গি তামিমরা যেভাবে গুলি ছুড়েছেন তাতে স্পষ্ট ছিলো ওদের জীবন-মরণের কোনো চিন্তা নেই। এরপর পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে নিহত হন তামিম ও তার দুই সহযোগী।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গি তামিমদের টার্গেট ছিলো ওরা নিজেরাও মরবে, পুলিশকেও মারবে। আশেপাশের লোকজনকেও অভিযানের সময় হত্যার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। কিন্তু তাদের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেছে।
তামিম চৌধুরীর হাত ধরেই দেশে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মোজাহেদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। জেএমবি’র ধ্বংসাত্মক একটি ধারার মাস্টারমাইন্ড তামিমের নেতৃত্বেই দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা এবং গুলশান ও শোলাকিয়ার মতো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা।
সম্প্রতি র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জঙ্গি শফিউলও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন, জঙ্গিদের কাছে তামিম চৌধুরী পরিচিত ছিলেন ‘স্যার’ নামে। তার নির্দেশেই বড় বড় মিশনে নামে জঙ্গিরা।
এ অভিযানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজামুল বলেন, অপারেশন হিট স্ট্রং-২৭ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। দীর্ঘ চাকরি জীবনে ইতোপূর্বে এতো বড় কোনো অভিযানে অংশ নেইনি। প্রথমবারের মতো এতো বড় অপারেশনে অংশ নিয়েই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই দেশের শীর্ষ জঙ্গি তামিম চৌধুরী ও তার সহযোগীদের ফিনিশ করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, জঙ্গিদের প্রধান টার্গেট পুলিশ। পুলিশের প্রতিই তাদের যতো ক্ষোভ। বার বার পুলিশকেই তারা টার্গেট করেছে। কিন্তু জীবনবাজি রেখে তাদের প্রতিবারই রুখে দিয়েছে পুলিশ।