রাজশাহীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভুয়া প্রশ্ন সরবরাহে আটক ১১
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ রিপোর্ট :
গত শুক্রবার রাজশাহীসহ সব মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রাক্কালে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির (ভুয়া প্রশ্ন সরবরাহ) পৃথক ঘটনায় রয়েল কোচিং সেন্টারের পরিচালক সোহেল রানা ওরফে ডনসহ ১১ জনকে পুলিশ আটক করেছে।
আটকদের বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ৪(১৩) ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত হিসেবে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার আটক ডনসহ সকলকে আদালতের মাদ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
আরএমপির মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মো. ইফতে খায়ের আলম জানান, রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে মহানগরীর রয়েল কোচিংয়ের পরিচালক মো. সোহেল রানা ওরফে ডন, আ. ওয়াহেদ, মোক্তাদির, মো. মেহেদী হাসান, মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. আজমল হোসেন, নয়ন আহমেদকে নগরীর হেতেমখাঁ এলাকা থেকে এবং গোয়েন্দা শাখার পৃথক টিম মো. শাকিল ইসলাম, মো. মিলন আহমেদ, আ. খালেক ও মো. শাহেদকে নগরীর উপশহর গোরস্থান এলাকার একটি মেস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ে তারা মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে ভূয়া প্রশ্ন ভর্তি পরীক্ষার্থীদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন।
উল্লেখ্য, নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার রয়েল কোচিং সেন্টারটি মেডিকেলে ভর্তির কোচিং সেন্টার। রয়েল কোচিং সেন্টার ছাড়াও সোহেল রানা ওরফে ডন আরো কয়েকটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক।
তিনি রাজশাহী ওয়াসার একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তিনি প্রভাবখাটিয়ে নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় ওয়াসার মালিকানাধীন ‘রাণী হেমন্ত কুমারী ওয়াটার ওয়ার্কাসে’র একটি ভবন নিজ কোচিং ব্যবসার জন্য পানির দরে ভাড়া নিয়েছেন।
মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহের ঘটনায় তার মালিকানাধীন রয়েল কোচিং সেন্টারের সংশ্লিষ্ট সকলেই জড়িত। তারা কোচিংয়ে শিক্ষকতা ও নানা অপকর্মের সাথেও জড়িত বলে আরএমপির মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা শেষে কয়েকজন ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তাদের সরবরাহকৃত ও উদ্ধারকৃত প্রশ্নপত্রের সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল নেই। গ্রেপ্তারকৃতরা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ভুয়া (মিথ্যা) প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করছিল।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৮-অক্টোবর, ২০১৬ইং/নোমান