বোমা বিস্ফোরণকারীর মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্টঃ
রাজধানীর বিমানবন্দরের হাজি ক্যাম্পের পাশে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পের সামনে বোমা বিস্ফোরণে নিহত বোমা বহনকারীর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পৌঁছেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ মার্চ) রাত ৮টা ৮ মিনিটে ওই বোমা বহনকারীর মরদেহ নিয়ে পুলিশের একটি ভ্যান ঢামেক হাসপাতালে পৌঁছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটে আশকোনা ৠাব ফোর্সের ব্যারাক থেকে মরদেহটি নিয়ে রওনা হয় বিমানবন্দর থানার পুলিশ ভ্যানটি।
সে সময় বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া জানান, মরদেহ ঢামেক হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুপুরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের তদন্ত করে। টিমটি তদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে বের হয়ে যায়।
তারও আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটি পুলিশের আইজিপি শহীদুল হক ও ৠাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শন থেকে তারা ৬টা ৫৫ মিনিটে বের হয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তারা কোনো মন্তব্য করেন নি।
সূত্র জানায়, মরদেহের সঙ্গে একটি ব্যাগ ও অবিস্ফোরিত সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ভেস্টটি ৠাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ৬টা ৮ মিনিটে নিষ্ক্রিয় করে।
দুপুরে ওই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ২ র্যাব সদস্য আহত হন। হামলার উদ্দেশে বোমা বহনকারী ওই ব্যক্তি দেয়াল টপকে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সঙ্গে নিয়ে আসা বোমার বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে জঙ্গির দেহ। এতে আহত হয়েছেন পাশে থাকা দু’জন র্যাব সদস্য। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, বর্তমানে তাদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পের ডান পাশের দেয়াল টপকে অপরিচিত ওই লোকটি ভেতরে ঢোকেন। তাকে দেখে কর্তব্যরত র্যাব সদস্যরা জিজ্ঞেস করেন। এক পর্যায়ে তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে লোকটি পাশ কাটিয়ে সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটান।
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনার পর সারাদেশের ৬৮টি কারাগার ও বিমানবন্দরগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।