ভৈরবে ম্যাজিস্ট্যাট দেখে বর পালালো! মেয়ের বাবাকে ৩ দিনের কারাদন্ড
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দিয়ে কন্যার বাবা রফিকুল ইসলামকে (৩৮) ৩ দিনের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আজ ১৫ই অষ্টোবর সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় শহরের বাগানবাড়ী রোডে কন্যার নানার বাসায় ভ্রাম্যমান আদালত বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দিয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিস্ট্যাট মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল। এসময় থানা পুলিশ ও কন্যার পরিবারের লোকজনসহ অতিথিগন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজ রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভৈরব শহরের বাগানবাড়ী রোডের একটি বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায় গিয়ে দেখতে পায় বাল্য বিবাহের আয়োজন।
নরসিংদী জেলার রায়পুরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের নাবালিকা কন্যা তৌহিদা ইসলামকে একই উপজেলার হাফেজ আবদুল মোমেনের ছেলে আতিকুর রহমানের সাথে বিয়ে দিতে আজ রাতে ওই বাসায় আয়োজন করে।
তৌহিদা ঢাকার গাওছিয়া এলাকার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। তার বয়স ১৫ বছর। ঘটনার সময় পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দেখে বর পক্ষ কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে কন্যার বাবা দোষ স্বীকার করলে তাকে এই কারাদন্ড দেয়া হয়। এসময় কন্যার বাবা ও মা রুমা বেগম অঙ্গীকার করে তাদের মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যতে বিয়ে দিবেনা।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল জানান, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। সরকারী আইন মোতাবেক কোন অভিভাবক তার কন্যাকে ১৮ বছর না হলে বিয়ে দিতে পারেনা। কন্যার বাবা ভুল স্বীকার করায় তাকে লঘুদন্ড দেয়া হলো।