শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরেও শান্তিপূর্ণ ভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত
মোঃ আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের লক্ষাধিক মুসল্লীর প্রাণ রক্ষা পেল দুই পুলিশের প্রাণের বিনিময়ে। আজ ৭ই জুলাই বৃহ:বার সকাল ৯.০০ ঘটিকার সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের আগত মুসল্লীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশির সময় আজিম উদ্দীন স্কুল মাঠ সংলগ্ন মুফতী মুহাম্মাদ আলী মসজিদের সামনে পুলিশের তল্লাশীকারী টিমের উপর প্রথমে হাতবোমা নিক্ষেপ করে। পরে সন্ত্রাসীরা চাপাতি ও পিস্তল দিয়ে পুলিশ সদস্যদের উপর ঝাপিয়ে পরে এবং পুলিশের উপর গুলি করতে করতে তারা মাঠের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি তদন্ত মোরশেদ উদ্দিন ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি অবস্থানে সন্ত্রাসীদের আক্রমনাত্নক গতি রোধ করে, এসময় সন্ত্রাসীরা পুনরায় হাত বোমা নিক্ষেপ করে ওসি তদন্ত মোরশেদ উদ্দিন ও তার সহযোদ্ধাদের উপর। কিন্তু নামায আদায়রত লক্ষ মুসল্লির জীবন রক্ষার স্বার্থে হাল ছাড়েননি ওসি মোরশেদ উদ্দিন।
এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশ সদস্য জহিরুল ইসলাম নিহত হন। অন্য পুলিশ সদস্য আনসারুল্লাহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া আহত ১১ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৬জনকে সিএমএইচএ হেলিকপ্টারযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
সন্ত্রাসী হামলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে ইমামতি করেন মাও. হাফেজ মুহাম্মাদ শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ, জামিয়া ইমদাদিয়ার শিক্ষক ও বড় বাজার জামে মসজিদের সহকারী ইমাম। এসময় শোলাকিয়ার ঈদগাহের ইমাম মাও. ফরিদউদ্দিন মাসুদ সার্কিট হাওজে অবস্থান করেন নিরাপত্তার স্বার্থে।
পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং জেলা প্রশাসক মো. আজিম উদ্দীন বিশ্বাস তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিকল্প ইমাম দ্বারা পবিত্র ঈদের জামাত সম্পাদন করান। পরে মুসল্লীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আজিম উদ্দীন স্কুল রোড ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন।

নামাজের পর সমস্ত মুসল্লীগণ পরস্পরের মাধ্যমে খবর পেয়ে ও গোলাগুলির শব্দ শুনে এলোপাথারি দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। তবে কোন হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের সাথে গোলাগুলির সময় স্থানীয় ঝরণা রাণী নামে সনাতন ধর্মীয় এক মহিলা নিহত হন এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিনের পক্ষ থেকে নিহত ঝর্না রানীর পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
তাছাড়া সন্ত্রাসীদের একজন সম্মূখ গোলাগোলিতে নিহত হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী মামুন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন, র্যাব এর কমান্ডার মুফতী মুহাম্মাদ পরিচালক আইন ও গণমাধ্যম, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন খান, র্যাব-১৪ এর সিও, জেলা প্রশাসক মোঃ আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. জিল্লুর রহমান, হিন্দু কল্যাণ ট্রাষ্টি রিপন রায় লিপু, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি এড. ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় পুলিশ, র্যাব, ডিবি, সিআইডির সাথে দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে সহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ২ জন সন্ত্রাসী শরিফুল ইসলাম (দিনাজপুর) ও জাহিদুল (কিশোরগঞ্জ) সহ সন্দেহভাজন ৭ জন গ্রেফতার এবং ২ রিভালবার, দেশীয় চাপাতি ও নিষ্ক্রিয় একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি ও ঘরে ঘরে অনুসন্ধান চলছে।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৭-০৭-২০১৬ইং/ নিঝুম

