জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আসা আপত্তি বিশ্লেষণ শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতের ওপরও বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ শেষ হলেই এরপর তৃতীয় ধাপে দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। তারপর চূড়ান্ত জুলাই সনদ তৈরি করবে কমিশন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিশন সনদ চূড়ান্ত করতে চাই।
আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ার ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলোর ওপর আগের দিন (বুধবার) শুরু হওয়া অসমাপ্ত আলোচনা অব্যাহত থাকে৷ রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পাওয়া মতামত বিশ্লেষণের পাশাপাশি সনদে অন্তর্ভুক্ত সিদ্ধান্তগুলোর ভাষাগত যথার্থতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এ ছাড়া সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদা আলাদা গ্রুপে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
গত ১৬ আগস্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর খসড়া পাঠানো হয়। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো খসড়া ওপর নিজের মতামত পাঠায়।
১৬ আগস্ট কমিশনের পক্ষে থেকে পাঠানো জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ায় তিনটি ভাগ আছে। প্রথম ভাগে আছে সনদের পটভূমি। দ্বিতীয় ভাগে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং তৃতীয় ভাগে আছে সনদ বাস্তবায়নের ৮ দফা অঙ্গীকারনামা।
সনদের অঙ্গীকারনামার কিছু কিছু বিষয় নিয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক দল আপত্তি জানায়।
বিশেষ করে জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপর স্থান দেওয়া, জুলাই সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমন বিধান রাখার প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মতামত দেয় বিএনপি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, এমন বিধান রাখা প্রয়োজন। তবে, তারা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখার দাবি তোলে।
বিএনপির অবস্থান হলো আইনবিধি-সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। আর সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে আগামী জাতীয় সংসদে।
আজকের বৈঠক অংশ নেওয়া কমিশনের একজন সদস্য জানান, এখন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আসা আপত্তিগুলো নিয়ে নিজেরা বৈঠক করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছি। একই সঙ্গে সনদের বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও গ্রহণ করছি। এরমধ্যে গত ১০ এবং ২৪ আগস্ট আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে করেছি। এখন আমরা সবগুলো নিয়ে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত জুলাই সনদ তৈরি করবো। এরপর আবার দলগুলোকে পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় ধাপের সংলাপ আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে বলেও কমিশনের সূত্রে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলো কমিশনের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না বা কমিশনের ড্রাফটিংয়ে কোথাও ঘাটতি আছে কি না, এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। অচিরেই কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের কাজ শুরু করবে।