ভারত সরকারকে প্রায়শ দখলদার ইসরায়েলের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনের বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ভারতের মিত্র রাষ্ট্রটির বিপরীতে অবস্থান নেওয়ায় এবার মাশুল গুনতে যাচ্ছেন জম্মু-কাশ্মিরের ক্রিকেটার ফুরকান ভাট। ব্যাটিংয়ের সময় তার হেলমেটে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। সে কারণে ফুরকানের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মির পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
চলমান জম্মু ও কাশ্মির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে গত বুধবার এমন ঘটনা ঘটে। জেকে১১ কিংস ও জম্মু ট্রেলব্লেজারসের মুখোমুখি ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা অঙ্কিত হেলমেট পরে খেলতে নামেন ফুরকান। সেই সময়ের ছবিটি খুব দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দৃষ্টিগোচর হয় জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, পুলিশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে– একজন ক্রিকেটার এবং টুর্নামেন্টের আয়োজকদের জম্মু-কাশ্মিমের পুলিশ ডেকে পাঠিয়েছে। তাদের প্রশ্ন জম্মুর নিজস্ব টুর্নামেন্টের ম্যাচে কীভাবে ফিলিস্তিনের পতাকা অঙ্কিত হেলমেট পরে নেমেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ফুরকান ভাট এবং টুর্নামেন্টের আয়োজক জাহিদ ভাট।
পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পতাকাসহ হেলমেটের ঘটনায় পুরো পরিস্থিতি এবং ওই ক্রিকেটার কোনো অনুমতি পেয়েছেন কি না তা পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। এ ছাড়া টুর্নামেন্টের নীতিমালা ও ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ব্যাপারে কোন উদ্দেশ্য কাজ করেছে সেসব নিয়েও চলছে তদন্ত। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ‘পুলিশ পুরো বিষয়টি যাচাই এবং ঘটনাটির তদন্ত করছে। খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেওয়া ওই টুর্নামেন্টের সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মির ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেকেসিএ)। টুর্নামেন্টটি জাতীয় কোনো কর্তৃপক্ষ বা কমিটির মাধ্যমে আয়োজিত হয়নি দাবি করে জেকেসিএ। সংস্থাটির প্রশাসনিক সদস্য ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্ত বলছেন, ‘এই লিগ জেকেসিএ আয়োজিত নয়।’ এ ছাড়া সেখানে অংশ নেওয়া কোনো ক্রিকেটারই রাজ্যের ক্রিকেট সংস্থার নিবন্ধিত নয় বলেও তিনি জানান। অস্বীকৃত লিগে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিবন্ধিত ক্রিকেটারদের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বিসিসিআইয়ের নীতিমালায়।