ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ ও ২ আসনে শেষ হয়েছে মনোনয়ন বাছাইয়ের কাজ। বরগুনার এই দুটি আসনে মোট ১৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় ১০৯ বরগুনা-১ আসন ও বেলা ১২টায় ১১০ বরগুনা-২ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বরগুনা-১ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান-এর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তিনটি কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ তাসলিমা আক্তার। ঋণ খেলাপি, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও হলফনামা জমা না দেওয়ার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মুহিবুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মনোনীত প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ, খেলাফত মজলিস-এর মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন-এর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বরগুনা-২ আসনে মনোনয়ন জমা দেন ১২ জন প্রার্থী। মনোনয়ন বাছাই শেষে ৪জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আমজনতা পার্টির প্রার্থী আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সোলায়মান হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদুজ্জামান। বরগুনা-২ আসনে আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন আকাশ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এবং দণ্ডিত। এসব তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ২০০৬ সালে বরগুনার বেতাগী থানায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. সোলায়মান ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামীম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তথ্য মনোনয়নপত্র সংযুক্ত করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। এ ছাড়াও মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উজ জামান যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে এবং সব তথ্য প্রদান না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াকেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম মনি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমদ, খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাব্বির আহমেদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান লিটন' কে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। প্রার্থী ঘোষণা শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মিজ্ তাছলিমা আক্তার নির্বাচনী আচরণবিধির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।