নির্বাচনের বিষয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা বলেন। এ সময় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া ও নিবন্ধনের সংখ্যা, ‘ভোটের গাড়ি’র প্রচারণাসহ নির্বাচনের প্রস্তুতি–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তিনটি ইভেন্ট হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার জানাজা কোনো ঝামেলা ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সরকারের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তাই নির্বাচনের বিষয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ ছড়ানো অর্থহীন।
তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। অনলাইনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতর থেকে ৭ লাখ মানুষ নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না, কারণ তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রেস সচিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারণা চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের ৭০ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
এসময় শফিকুল আলম বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। অনলাইনে শেষ হওয়া নিবন্ধনে দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই ব্যবস্থাকে নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সরকার।
প্রেস সচিব নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে জানান, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। তারা মূলত নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন অথবা ভোটের দিন নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না- এমন ভোটার। আর বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন।
শফিকুল আলম বলেন, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম বছরেই ৫ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছে, যা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই পোস্টাল ব্যালট মডেলটি আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ এ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের এই মডেলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। প্রবাসী জনসংখ্যা বেশি— এমন দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।