ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে দুই জন নিহত এবং কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এই সংঘর্ষ চলছে।
জানা গেছে, দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ যেতে বিলম্ব হওয়ায় এখন পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রহিম মিয়া ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
নিহতরা হলেন– আক্তার মিয়া (৪৫) ও মাওলানা হাবিবুল ইসলাম (৩৫)। মাওলানা হাবিবুল ইসলাম গোয়ালনগর ইউনিয়ন ইসলামিক ফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপালন করা এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে রহিম মিয়ার সমর্থক জিয়া মিয়াকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত জিয়াকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনার জন্য রহিম মিয়ার পক্ষের সমর্থকরা কাশেম মিয়ার পক্ষকে দায়ী করেন।
এদিকে, জিয়া মিয়া ১০ দিন জেল খেটে কারাগার থেকে বের হয়ে ১৭ মার্চ এলাকায় যান। সেইদিনই তার গ্রেফতার হওয়া নিয়ে রহিম মিয়ার পক্ষ ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের ঘটনাস্থলেই আক্তার মিয়া ও হাবিবুল ইসলাম নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল। সংঘর্ষের আহতদের নাসিরনগর সদর, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এবং ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রউফ বলেন, ‘সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এখনও সংঘর্ষ চলছে। দুর্গম হাওর পথ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করা যায়, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’