ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈত্রিক জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চতুল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হুমায়ুন কবীর মিন্টু। অভিযুক্ত বড় ভাই ডা. গোলাম কবীরকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চতুল উত্তরপাড়া গ্রামের কাওছার শেখের বাড়ির পাশের প্রায় ৪০ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল দুই ভাইয়ের মধ্যে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ জমি কাওছার শেখের নামে হস্তান্তর করা হলেও বাকি জমির গাছ বড় ভাই গোলাম কবীর প্রায় ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
বুধবার সকালে গাছ কাটতে গেলে ছোট ভাই মিন্টু বাধা দেন। এ সময় দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলাম কবীর বাড়ি থেকে একটি শর্টগান এনে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মিন্টু।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন মৃধা জানান, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন গোলাম কবীর তার ছোট ভাইকে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
নিহতের আরেক ভাই আলমগীর কবীর বলেন, “আমার চোখের সামনে বড় ভাই ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। সামান্য গাছ নিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে কখনো ভাবিনি।”
মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমির গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত শর্টগানটি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, ডা. গোলাম কবীর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে তিনি প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।