আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
এর আগে তিনি গত বছরের অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন। বিসিবি নির্বাচনে তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ২৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক জানিয়েছেন, সব ক্যাটাগরির নির্বাচনেই অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিটিটি।
এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে এনএসসি। ওই ধারা অনুযায়ী, এনএসসি তাদের অধীনস্ত কোনো ক্রীড়া সংস্থায় অনিয়ম খুঁজে পেলে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে তারা বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দেবেন। তবে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি তিনি।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা নেই বলেও বিশ্বাস তাঁর। আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনএসসির পরিচালক।
১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে তামিম ইকবাল ছাড়াও আছেন আরও দুই সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন ও আতহার আলী খান। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে চারজন সরাসরি বিএনপি নেতাদের স্ত্রী বা পুত্র। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে বিএনপির উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদের ছেলে। কমিটিতে আরও আছেন বিভিন্ন সময়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে থাকা তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।