ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কার, তা নিয়ে নতুন বিতর্কের মধ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল যুক্তরাজ্য।
শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করে বলেছে, দ্বীপপুঞ্জটি ‘যুক্তরাজ্যের কাছেই’ থাকবে।
এদিকে আর্জেন্টিনা বিরোধপূর্ণ ওই এলাকা নিয়ে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফকল্যান্ড ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসে।
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া নেটো মিত্রদেশগুলোকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য কিছু পদক্ষেপের রূপরেখা অভ্যন্তরীণ এক ইমেইলে তুলে ধরে প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে, পশ্চিমা সামরিক জোট নেটো থেকে স্পেনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার মতো বিষয়গুলো।
ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এর আগে বিপুল ভোটে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা সবসময়ই দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যে যুক্তরাজ্যের, সেই সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্যের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার।
ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতে ন্যস্ত এবং দ্বীপপুঞ্জবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে, বলেছেন তিনি।
মুখপাত্র জানান, এই অবস্থান আগেও বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে এবং এতে কোনো বদল হচ্ছে না।
এদিকে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বিতর্ক নিয়ে পুনরায় আলোচনার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্র আবারও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার সদিচ্ছা প্রকাশ করছে। এর মাধ্যমে এই সার্বভৌমত্ব বিরোধের একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে এবং সেখানকার বিশেষ ঔপনিবেশিক পরিস্থিতির অবসান ঘটবে।”
আর্জেন্টিনা দীর্ঘকাল ধরে দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা দাবি করে আসছে, তারা একে ‘মালভিনাস’ নামে ডাকে।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র তাদের ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ ইমেইলটির অস্তিত্ব নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও নেটো মিত্রদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেটো মিত্রদের জন্য সবকিছু করলেও প্রয়োজনের সময় তারা পাশে ছিল না। প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করবে যেন প্রেসিডেন্টের কাছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প থাকে, যাতে আমাদের মিত্ররা আর কাগুজে বাঘ না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে,” বলেছেন তিনি।
লেবার পার্টির সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রী লর্ড ওয়েস্ট পেন্টাগনের এই ইমেইল ফাঁস হওয়াকে ‘অস্বাভাবিক’ অভিহিত করেছেন।
তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করে মনে করিয়ে দেন যে, নেটো কেবল একবারই তাদের আর্টিকেল ৫ কার্যকর করেছিল এবং তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও ফকল্যান্ড নিয়ে অবস্থান ট্রাম্প পুনর্বিবেচনা করবেন—এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রক্ষণশীল দলের নেত্রী কেমি ব্যাডেনোক যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ‘পুরোপুরি অর্থহীন’ আখ্যা দিয়েছেন।
রিফর্ম ইউকে-র নাইজেল ফারাজ বলেছেন, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আচরণের প্রতিবাদে রাজার আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের দাবি জানান।
এদিকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।