যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (০১ মে) ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে আলোচনা চলছে, কিন্তু তাতে অগ্রগতি হচ্ছে না। আমার সামনে দুটি পথ খোলা আছে, হয় তাদের সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া, নয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো।
নতুন প্রস্তাবের কোন দিকগুলোতে তার আপত্তি, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, ইরান এমন কিছু চাইছে, যেগুলোতে আমি রাজি হতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, তাদের নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এছাড়া কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটির সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরে গেলে ইরানের পুনর্গঠনে দুই দশক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও চূড়ান্তভাবে সন্তুষ্ট নয় বলে জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরান নতুন প্রস্তাবটি পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করে, যাতে সেটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে পাকিস্তান সরকার এই প্রস্তাবকে তাদের সক্রিয় ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির ফল হিসেবে দেখেছিল। তবে সরাসরি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসলামাবাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে বার্তা আদান-প্রদানে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
ইসলামাবাদ মনে করছে, একটি সমঝোতা এখনও সম্ভব। তবে একদিকে ইরান নিজের অবস্থান অতিরিক্ত শক্ত করার ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আপসের বদলে পূর্ণ বিজয় চাচ্ছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে শুধু আঞ্চলিক শান্তিই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকাও জড়িত। বিশেষ করে পাকিস্তানের, যেখানে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
ইরানের ভেতরে বিতর্কের পরই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো হয়। ইরানি কর্মকর্তারা আশা করছেন, ১৪-১৫ মে শি জিনপিং-এর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের আগে ট্রাম্প এই সংঘাতের অবসান চান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আবারও যুদ্ধে ফেরার কথা বিবেচনা করছে। এদিকে ইরানের কিছু মহলে অসন্তোষ দেখা গেছে, কারণ পাকিস্তান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মানতে বাধ্য করতে পারেনি।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো উভয় পক্ষকে একযোগে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নিতে রাজি করানো। তবে ট্রাম্প বলেছেন, অবরোধ বোমা হামলার চেয়েও কার্যকর। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রণালি নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর কথা বলেছেন; যা থেকে বোঝা যায়, কেউই সহজে পিছু হটছে না।
শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ প্রদান করলে; এমনকি ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো দাতব্য সংস্থায় অনুদান দিলেও শিপিং কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে। যুদ্ধের অবসানে চুক্তির অংশ হিসেবে প্রণালি দিয়ে চলাচলে ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।