২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা যেতে পারে নেইমারকে। দীর্ঘ ইনজুরি, ফিটনেস সংকট আর জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময় পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। কার্লো আনচেলত্তি তার প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা দিয়েছেন নেইমারকে, যা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, নাম নয় দলে জায়গা পাবে কেবল ফিট ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকা ফুটবলাররা। সেই কারণেই ব্রাজিলের সর্বশেষ স্কোয়াডে ছিলেন না নেইমার। তখনও ভয়াবহ এসিএল ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি মাঠে ফেরেননি তিনি। তবে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
গত কয়েক মাসের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে গেছে পুরোপুরি। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজের পুরোনো ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন নেইমার। ১২ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল, সঙ্গে ৩ অ্যাসিস্ট। শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, মাঠে তার প্রভাবও স্পষ্ট। তার নেতৃত্বে ব্রাজিলিয়ান লিগে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সান্তোস, পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছে দলটি।
নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল ড্রেসিংরুমেও এনে দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, আবারও নেইমারের সঙ্গে খেলতে মুখিয়ে আছেন তারা। রাফিনিয়া সম্প্রতি বলেছেন, 'নেইমারকে দলে পাওয়া সবসময়ই ভালো।' ব্রাজিল দলে আবারও তাকে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চান বলেও জানান বার্সেলোনা তারকা।
তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু নিশ্চিত হয়নি। প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের তালিকায় থাকলেও ১৮ মে ঘোষিত হবে আনচেলত্তির চূড়ান্ত স্কোয়াড। সেই তালিকায় জায়গা পেলেই নিশ্চিত হবে নেইমারের বিশ্বকাপ ফেরা। যদি সুযোগ পান, তাহলে এটি হবে ব্রাজিলের হয়ে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই ম্যাচেই ভয়াবহ এসিএল ইনজুরিতে পড়েন তিনি। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে কাটানোর পর এখন আবার বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: অ্যালিসন, এদেরসন, বেন্তো, হুগো সুজা, জন ও কার্লোস মিগেল।
ডিফেন্ডার: মারকিনিয়োস, থিয়াগো সিলভা, গাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ব্রেমার, লেও পেরেইরা, ইবানিয়েস, আলেক্সান্দ্রো, ফাব্রিসিও ব্রুনো, বেরালদো, ভিতর রেইস ও মুরিলো।
মিডফিল্ডার: কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, ফাবিনিয়ো, আন্দ্রেই সান্তোস, দানিলো, লুকাস পাকেতা, গাব্রিয়েল সারা, জোয়াও গোমেস, আন্দ্রেয়াস পেরেইরা, জোয়েলিন্তন, জেরসন ও মাতেউস পেরেইরা।
ফরোয়ার্ড: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, লুইজ হেনরিকে, গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, জোয়াও পেদ্রো, এস্তেভাও, নেইমার, এন্দ্রিক, রাইয়ান, অ্যান্টনি, ইগর থিয়াগো, পেদ্রো, রিচার্লিসন, ইগর জেসুস ও কাইও জর্জে।