muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

আন্তর্জাতিক

আমিরাত সফরে মোদি, সই তেল-গ্যাস চুক্তি

আমিরাত সফরে মোদি, সই তেল-গ্যাস চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফরে গিয়ে তেল-গ্যাস নিয়ে চুক্তি সই করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (১৫ মে) মোদি ছয় দিনের বিদেশ সফরের সূচনা করেছেন আমিরাত দিয়ে। এরপর ইউরোপের চার দেশ-নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ইতালিতে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, ইরানে যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা ও জ্বালানি সঙ্কট এবং ভেঙে পড়া পণ্য সরবরাহ নিয়ে পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করবেন মোদি।

আমিরাতে গিয়ে শুক্রবার সেই কাজ শুরু করেছেন তিনি। পেট্রোপণ্য এবং রান্নার গ্যাস পেতে ভারত চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্য নিয়েও চুক্তি করেছে দুই দেশ।

আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোদী বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর সেই বৈঠকেই দুই দেশের মধ্যে এলপিজি সরবরাহ এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়।

মোদির এই সফরে সবচেয়ে বড় সাফল্য হল এই চুক্তি স্বাক্ষর। কারণ, এই জ্বালানি সহযোগিতা এমন এক সময়ে এসেছে যখন হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

জ্বালানি ছিড়াও ভারতের গুজরাটে একটি ‘শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার’ বা জাহাজ মেরামতির কেন্দ্র তৈরির চুক্তিও করেছে দুই দেশ। এটি ভারতের সামুদ্রিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা ছাড়াও ভারতকে জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করবে।

আবুধাবিতে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা চলাকালে মোদি বলেন, ভারত সব পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য ভারত সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে চলাকালে ইরানের আমিরাতে হামলা চালানোর নিন্দাও এদিন করেছেন মোদি। হরমুজ প্রণালি মুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক আইনকে শ্রদ্ধা করা দরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং গত ২৫ বছরের হিসেবে সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। দেশটিতে ৪৫ লাখেরও বেশি ভারতীয় বাস করে। ফলে এ সফর তাদের কল্যাণের বিষয়ে আলোচনারও একটি সুযোগ।

পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেও আরব আমিরাত ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদী পণ্য সরবরাহ চুক্তির ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।

Tags: