muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

করিমগঞ্জ

প্রতারণার ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ গেল করিমগঞ্জের জাহাঙ্গীরের

প্রতারণার ফাঁদে রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ গেল করিমগঞ্জের জাহাঙ্গীরের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতায় এবার প্রাণ হারালেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫)। পরিবারের দাবি, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হলেও পরে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। যুদ্ধে পাঠানোর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি।

জাহাঙ্গীর করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে তার সহকর্মী ও বন্ধু মৃদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃদুলও রাশিয়ায় একই সেনা ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

জাহাঙ্গীরের পরিবার ও মৃদুলের ভিডিও বার্তা থেকে জানা যায়, গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের মধ্যে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।

ভিডিও বার্তায় মৃদুল বলেন, ‘এমন দুর্ঘটনার জন্য পুরোপুরি দায়ী আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি। তাদের প্রতারণার কারণেই আমরা তিনজন বন্ধুকে হারালাম।’

জাহাঙ্গীরের ফুফাত ভাই মো. রমজান জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একটি কোম্পানিতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে একটি এজেন্সি জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তাকে একটি পিগ ফার্মে কাজ দেওয়া হয়। মাসখানেক কাজ করার পর পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সুস্থ হলে রেস্টুরেন্টে চাকরির কথা বলে জাহাঙ্গীরসহ সাতজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

রমজানের ভাষ্য, পরে জোরপূর্বক তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই জাহাঙ্গীরসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হন।

তিন ভাইবোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। দুই বছর আগে তিনি বাবাকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন। তার দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরিবার জানায়, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু তার স্ত্রী মাশুকা জানতেন। পরিবারের অন্য কাউকে কিছু জানাননি জাহাঙ্গীর। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন, তাই যোগাযোগ সম্ভব হবে না।

জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। জাহাঙ্গীর হোসাইনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, ‘অফিসিয়ালি কিছু জানতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জাহাঙ্গীর হোসাইনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।’

Tags: