muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

কিশোরগঞ্জের খবর

প্রস্তুত শোলাকিয়া মাঠ: সকাল ৯টায় ঈদ জামাত, থাকছে বিশেষ ট্রেন

প্রস্তুত শোলাকিয়া মাঠ: সকাল ৯টায় ঈদ জামাত, থাকছে বিশেষ ট্রেন

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে চলছে ঈদুল আজহার জামাত আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

এখন মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, কাতারের দাগ টানা, পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ঈদগাহ কমিটির কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন সাংবাদিকদের বলেন, “ইতোমধ্যে মাঠে দাগ কাটা, দেয়ালে রঙ করাসহ সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি।”

১৮২৮ সালে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহার ১৯৯ তম জামাত। জামাত নির্বিঘ্ন করতে মুসল্লিদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহ্য ও রেওয়াজ অনুযায়ী সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। শোলাকিয়ার প্রচলিত রীতিতে শটগানের গুলি ফুটিয়ে ঈদের জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হবে। জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং শেষ ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে কাতারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

জামাত শুরুর আগে পরপর তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে শোলাকিয়া ময়দানে শুরু হবে ঈদুল আজহারের জামাত। জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেছেন, “নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি না থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই শোলাকিয়ায় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সলের ঈদুল ফিতরে রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার ঈদের জামাতে নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ফাঁক না থাকে।”

তিনি বলেন, “শোলাকিয়া মাঠে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মাঠের ভেতর ও বাইরে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার।”

“আকাশ থেকে নজরদারিতে থাকবে ড্রোন ক্যামেরা। আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট থাকবে। তাছাড়া শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হবে।”

“মাঠে কেবল জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য কোনো ব্যাগ বা বস্তু বহন করা নিষিদ্ধ।” যোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে শোলাকিয়ায় জামাতে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে আসা ট্রেনটি সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে আসা আরেকটি বিশেষ ট্রেন সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছাবে। পরে দুপুর ১২টায় ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবে।

মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জে জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর এই ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন।

ওই বছর অনুষ্ঠিত প্রথম ঈদের জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন। সেই থেকেই মাঠটির নাম হয় ‘সোয়া লাখি মাঠ’। পরবর্তীতে উচ্চারণের পরিবর্তনে সেটিই আজকের ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রায় সাত একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে দুই লাখের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মাঠটিতে রয়েছে ২৬৫টি কাতার।

Tags: