muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

কিশোরগঞ্জের খবর

পাকুন্দিয়ায় জুবায়ের হত্যা মামলার প্রধান আসামি ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার

পাকুন্দিয়ায় জুবায়ের হত্যা মামলার প্রধান আসামি ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত সফল অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রানা (৩৮) প্রায় ১৮ বছর আগে জেসমিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পারিবারিক যোগাযোগের সূত্রে রানার মামাতো ভাই মো. জোবায়েদ (২৬)-এর সঙ্গে পরিবারের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, একপর্যায়ে জোবায়েদের সঙ্গে রানার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানতে পেরে রানা তার স্ত্রী এবং জোবায়েদকে ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জেসমিন আক্তার তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

এরই মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরে সেখানে গিয়ে তিনি তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেন।

এ ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ঈদুল আজহার পরদিন রানা একটি ধারালো দা সংগ্রহ করেন। এরপর কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া থানাধীন শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেন। হামলার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত জোবায়েদকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত ও অভিযানিক টিম গঠন করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে পুলিশ ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে জেলার হোসেনপুর উপ‌জেলার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি মো. রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে এবং ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা নং-২২, তারিখ ৩০ মে ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।

এ দি‌কে নিহত জোবায়েদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

যেকোনো অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

জেলা পুলিশের এই দ্রুত ও সফল অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করেছে এবং অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যে, কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না।

Tags: