কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের খিজিরপুর গ্রাম থেকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে গণধোলাই ও পিঁপড়ার কামড় খাইয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তার মো.খোকন (৪৪) উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের মথুরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আ. ছমেদের ছেলে। তিনি কুমিল্লার একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
রবিবার (৩১ মে) ভুক্তভোগীর মেয়ে বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধবা ভুক্তভোগীর কোনো ছেলে সন্তান নেই। জীবিকার তাগিদে তিনি বিভিন্ন গ্রামে ভিক্ষা করেন। গত ২৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল গ্রামে ভিক্ষা করতে যান। বিকেলে খোকন তাঁর সন্তানের মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধাকে ডেকে নেন। পরে কৌশলে তাঁকে কান্দাইল গ্রামের একটি পরিত্যক্ত দোচালা টিনের ঘরে নিয়ে যান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘরের ভেতর নেওয়ার পর খোকন ওই বৃদ্ধাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং রশি দিয়ে তাঁর দুই পা বেঁধে ধর্ষণ করেন। এ সময় শারীরিক নির্যাতনে বৃদ্ধা জখম হন। ঘটনার পর খোকন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় এক নারী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর গতকাল শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর মেয়েকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বলতে দেখা যায়, আমার মা আসরের সময় মেঘ-বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরলে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাই। মা প্রথমে ভয়ে কিছু বলতে চাননি, শুধু বলছিলেন যে মথুরার মানুষ অনেক কিছু বলবে। আমি তখন জোর দিয়ে জিজ্ঞেস করি—তিনি কোথাও পড়ে গেছেন কি না, নাকি চাল নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়েছে, নাকি কোনো পুরুষ মানুষ তাঁকে ধরেছে? এ কথা শুনেই মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা কাঁদতে কাঁদতে আমাকে বলেন, ও মা, তুমি আমাকে কিছু বলো না। একটা পুরুষ মানুষ আমাকে একটা ঘরের ভেতর নিয়ে হাত-পা বেঁধেছে। তারপর আমার মুখের ওপর বসে আমাকে কামড় দিয়েছে ।
ভুক্তভোগীর মেয়েকে আরও বলতে দেখা যায়, ঘটনার পর পরই তিনি স্থানীয় জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের কাছে গিয়ে বিচার দাবি করলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো সামাজিক পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শনিবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত খোকনকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং একপর্যায়ে পিঁপড়ার কামড় খাইয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল বিকেলে খিজিরপুর গ্রামে বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির জানান, আজ রবিবার দুপুরে আসামি খোকনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।