কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেশনে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ও রেলওয়ে থানা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। মামলায় দেড় শতাধিকের বেশি অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রেলওয়ে থানার এসআই বিএম আফজাল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পঞ্চবটি এলাকার যুবকদের সঙ্গে জগন্নাথপুর এলাকার যুবকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জেরে ৪ জুন বিকেলে ভৈরব স্টেশন এলাকায় জগন্নাথপুর এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে মারধর করে পঞ্চবটি এলাকার লোকজন। পরে মারধরের ঘটনায় জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি এলাকার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রসহ ইট-পাটকেল ও রেললাইনের পাথর নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়।
প্রথমে রেলওয়ে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে পরে ভৈরব থানা পুলিশ ও শহর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। তারাও ব্যর্থ হলে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা ও ভৈরব সেনা ক্যাম্পের সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষকারীরা রেলওয়ের স্টেশন এলাকা দখল করে তাণ্ডব চালিয়ে রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ে থানার ব্যাপক ক্ষতি করে। এসময় সংঘর্ষকারীরা স্টেশন প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দোকানে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট করে সাধারণ জনগণ ও যাত্রী সাধারণের মনে চরম আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে। সমগ্র স্টেশন এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় দেড় শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভৈরব স্টেশন মাস্টার ইউসুফ মিয়া বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় স্টেশন ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে নির্দেশনা না থাকায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না।