muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

পাকুন্দিয়া

পাকুন্দিয়ায় গরুর বড়ই গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

পাকুন্দিয়ায় গরুর বড়ই গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার  ১

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পূর্ব নারান্দী এলাকায় গরুর বড়ই গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত মো. নুরুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের পূর্ব নারান্দী এলাকার দারপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত কিতাব আলীর ছেলে রেনু মিয়ার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৩ জুন সকালে রেনু মিয়ার একটি চারা বড়ই গাছের কয়েকটি পাতা খেয়ে ফেলে নুরুল ইসলামের বকনা বাছুর। বাছুরের এই বড়ই পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে রেনু মিয়া। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঝগড়া চলাকালে এক পর্যায়ে রেনু মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নুরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে আহত নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক নুরুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

সেখানে টানা চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার সকালে তিনি মারা যান।ঘটনার পর নিহতের মেয়ে শাহানা আক্তার বাদী হয়ে ওইদিন রাতে পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতিপক্ষের মৃত কিতাব আলীর ছেলে রেনু মিয়া, মৃত খোকন মিয়ার ছেলে নাঈম ও নাদিম এবং জসিম উদ্দীনের ছেলে সোহাগসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) রাতে নারান্দী এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি জসিম উদ্দীনের ছেলে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে আজ রবিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মেয়ে শাহানা আক্তার বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি আজ রবিবার সকালে মারা গেছেন। আমি জড়িত সব আসামির গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, আহত ব্যক্তির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tags: