muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

খেলার খবর

বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে ক্ষমা চাইলেন ছেলে

বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে ক্ষমা চাইলেন ছেলে

বাবা তিউনিসিয়ার। মা মরক্কোর। শরীরে আফ্রিকার রক্ত। কিন্তু ফুটবল কতজনকে দেশান্তরী করেছে। কোন কাননের ফুল কোথায় সুরভি ছড়ায়। কোন গগনের তারা কোথায় আলো বিলিয়ে সুখী হয়, কে জানে। ফুটবল কাউকে কাউকে যাযাবর করে তোলে। ইয়াসিন আয়ারি তাদেরই একজন। ২২ বছরের এক টগবগে তরুণের জন্ম অবশ্য সুইডেনে। তার পিতৃভূমি উত্তর আফ্রিকার মাঘরের অঞ্চলের এই দেশ প্রাচীন স্থাপত্য, হাটবাজার এবং নীল তটের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ওই যে ভাগ্য! কোথা থেকে কোথায়, কোন দূর অজানায়, কাকে কখন নিয়ে যাবে, কে জানে। তিউনিসিয়ার আলো-বাতাস গায়ে মাখার সৌভাগ্য হয়নি তার। ভাগ্য আয়ারিকে তার আগেই নিয়ে যায় সুইডেনে। আফ্রিকা ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমান তার বাবা-মা। নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের মাঝে এক ফালি মাটি পড়ে আছে সমুদ্রবেষ্টিত হয়ে। যেন সাগরের আলিঙ্গনে জড়িয়ে থাকা সুইডেন এক ‘সুইট’ বধূ। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সেদেশের রাজধানী স্টকহোম ১৪টি দ্বীপের ওপর দাঁড়িয়ে। সেখানেই আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা।

আয়ারিকে নিয়ে এই যে এত শব্দের বিলাসিতা, এর মূলে রয়েছে একটি ছোট্ট ঘটনা। ছোট, কিন্তু তাৎপর্য ব্যাপক। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে আপনি যদি সুইডেন-তিউনিসিয়ার ম্যাচ টিভিতে দেখে থাকেন আয়ারির মাতৃভূমি-মমতা আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার কথা। ম্যাচে সুইডেন ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তিউনিসিয়াকে। সুইডিশদের পাঁচ গোলের দুটি ব্রাইটনের মিডফিল্ডার আয়ারির। গোল দুটিকে ‘সূচনা’ ও ‘সমাপ্তি’র সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে না। সাত মিনিটে প্রথমটি, যোগ করা সময়ে (৯৬ মিনিট) শেষটি। কিন্তু এই গল্প গোল নিয়ে নয়। গোল করার পর উদ্যাপনে তার অনীহা নিয়ে। মা-বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে আয়ারির হয়তো মনে হয়েছে, উল্লাস করাটা অন্যায় হবে। তাই জোড়া গোল এবং এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েও আয়ারি নিশ্চল, নীরব থাকেন। গোল করার পর দুই হাত আকাশের দিকে তুলে দাঁড়িয়ে থাকেন শান্তভাবে। হয়তো সৃষ্টিকর্তাকে বললেন, ক্ষমা করুন। আমি যে ভাগ্যের হাতে বন্দি। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেই স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে বসা তিউনিসিয়ার সমর্থকদের দিকে দুই হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন আয়ারি।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল, দ্বিতীয় গোল-উৎসবের উপলক্ষ্য এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে। তবু শান্ত, সংযত আয়ারি হৃদয়ের রক্তক্ষরণে উল্লাসের উদ্যানে পা বাড়াননি। পিতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।

২০২১ সালে তিউনিসিয়া তাকে প্রস্তাব দিয়েছিল জাতীয় দলে খেলার। তাহলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন আয়ারি। বাবার কথায় ছেলে বেছে নেন দত্তক দেশটিকে। কোন কাননের ফুল কোথায় সুরভি ছড়ায়। কোন গগনের তারা কোথায় আলো বিলিয়ে যায়।

Tags: