যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন স্বীকার করেছেন, তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ফিফা স্থগিত করার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দলের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও উঠে আসে তার কথায়।
২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়, যখন জানা যায় যে তার লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার খেলার কথা ছিল না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন এবং হোয়াইট হাউস সেই শাস্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। এতে পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এরপর শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার সিবিএস মর্নিংস অনুষ্ঠানে বালোগুন বলেন, ‘প্রথম প্রতিক্রিয়ায় আমি অবশ্যই খুশি ছিলাম যে আবার দলে ফিরতে পারছি। কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে বুঝতে পারি, এটি অনেক বিতর্কের জন্ম দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সতীর্থদের মধ্যেও কিছুটা স্নায়ুচাপ দেখতে পাচ্ছিলাম, কারণ এমন ঘটনা খুবই ব্যতিক্রমী। ম্যাচ যত এগিয়ে আসছিল, আমি যতটা সম্ভব খেলায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাইরের এত আলোচনা ও চাপ এড়িয়ে চলা কঠিন ছিল।’
এছাড়াও তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বিভ্রান্তিকর ছিল। কারণ দল আমাকে ছাড়াই অনুশীলন করছিল, আর আমি প্রায় শুধু দলের মনোবল ধরে রাখার ভূমিকায় ছিলাম।’
বালোগুন এই মন্তব্য করেছেন হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানির বক্তব্যের কয়েক দিন পর।
জুলিয়ানিও স্বীকার করেছিলেন যে, লাল কার্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে তিনি এই হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নেন। তার দাবি, বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে, তাই মাঠের খেলায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
ডেইলি মেইল জানতে চেয়েছিল, পুরো ঘটনাটি কি মরিসিও পচেত্তিনোর দলের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছিল? জবাবে জুলিয়ানি বলেন, ‘সম্ভবত।’
বসনিয়ার খেলোয়াড় তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। বলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় তিনি প্রতিপক্ষের পায়ের পেছনের দিকে পড়ে যান এবং তার পায়ের পেছনের অংশ ও গোড়ালিতে আঘাত লাগে।