muktijoddhar kantho logo l o a d i n g

দেশের খবর

ডেভিড ইমন কাছে পাওয়া গেছে আধার কার্ড ,পালাতে চেয়েছিল ভারতে

ডেভিড ইমন কাছে পাওয়া গেছে আধার কার্ড ,পালাতে চেয়েছিল ভারতে

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ‘পরামর্শে’ ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করার কথাও জানান তিনি।

মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের জোড়া খুনসহ অন্তত ১৮ মামলার আসামি। বুধবার ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি কার থেকে তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, দেশে ধরা পড়ার সম্ভাবনা দেখে বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইমনের। সকাল ৬টায় তার ঝিকরগাছা পৌঁছানোর কথা ছিল। কে সীমান্ত পার করে দেবে এবং সেদিকে তাকে কে গ্রহণ করবে সবকিছু ঠিক করা ছিল।

গ্রেপ্তার ইমনের কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, আধার কার্ডটিতে নাম লেখা ছিল আজহার খান। সেখানে তার জন্ম তারিখ লেখা ছিল ১২ মে, ১৯৯৮।

ইমন ভারতে পালোনোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে গাড়ি ও চালক পাল্টে ফেলেছিল বলে দাবি পুলিশ সুপার মাসুদের।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি একদিনের নয়। গত ১৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কাজ শুরু করে। সে হিসেবে গত ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি ইলিয়াছকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যায়।

মাসুদ আলমের ভাষ্য, ঢাকা থেকে ইমন খুলনার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সে হিসেবে ওইদিন পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় চেক পোস্ট বসানো হয়। খুলনার রূপসা এলাকতেও চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। কিন্তু তারা গোপালগঞ্জে থেকে খুলনার দিকে না গিয়ে রুট পাল্টে নড়াইলের দিকে যায়। বিষয়টি যাশোরের পুলিশ সুপারকে জানানোর পর তিনি সেখানে একটি দল ঠিক করেন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাইট্রাল টিলাপাড়ায় মৃত আবুল হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য, ইমনকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি প্রচার হওয়ায় অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অভিযান পুলিশের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠে।

পুলিশ সুপার জানান, ইমনের পাশাপাশি রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে বুধবার নোয়াখালীতে অভিযান চালায় পুলিশ।

তিনি বলেন, রাউজান এলাকায় হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের হোতা রায়হান কোম্পানীগঞ্জে একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ ধরার চেষ্টা করলে সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। ২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে ইমনসহ সন্ত্রাসীদের নাম আলোচনায় আসে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর রাজনৈতিক আশ্রয়ে কিছু হয়েছে বলে আমার মনে হয় না এবং এমন কিছু পাইনি। আমার মনে হয় তারা হয়ত সুযোগ নিয়েছে। মাঝে যে একটা ভ্যাকুয়াম ছিল, সেটার তারা সুযোগ নিয়েছে।

Tags: