গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর ইসরাইলি হামলার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ এনেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে ‘রেড নোটিশ’ চেয়েছে দেশটি।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুসহ আরও একজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গত ১৪ জুলাই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর বাধা দেওয়ার ঘটনায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গুরলেক বলেন, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানিয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়।
তিনি আরও বলেন, গাজায় ইসরাইলের অপরাধের জন্য দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে তুরস্ক সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগেও গাজায় ইসরাইলি হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল তুরস্ক। আঙ্কারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।
ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাধা
গত মে মাসে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অন্তত দুটি নৌযানে গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বহরটি যাত্রা করেছিল। এর আগেও গাজামুখী ত্রাণবাহী বহরের অভিযান আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি বাহিনী আটকে দিয়েছিল।
ফ্লোটিলায় ইসরাইলি বাহিনীর বাধা দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মে মাসে তুরস্ক থেকে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় প্রায় ৫০টি নৌযান ছিল। ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলি বাহিনী কর্মীদের আটক করে পরে একটি ইসরাইলি কারাগারে নিয়ে যায়। এরপর তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
সে সময় ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ভিডিওতে তাকে হাত পেছনে বাঁধা এবং হাঁটু গেড়ে থাকা ফ্লোটিলার কর্মীদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধভাবে উসকানিমূলক আচরণ করতে দেখা যায়।
গুরলেক বলেন, গাজায় সংঘটিত অপরাধগুলো ধামাচাপা দেওয়া হবে না এবং দায়ীদের দায়মুক্তির ঢাল দিয়ে রক্ষা করা হবে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থাকা সব উপায় আমরা দৃঢ়ভাবে ব্যবহার করব।
তুরস্ক-ইসরাইল পালটা-পালটি বক্তব্য
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র সত্যিকারের গণতন্ত্র ইসরাইলের নেতা ও সেনাদের ভয় দেখানোর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই করুণ প্রচেষ্টা কোনো কাজে আসবে না।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে। একই সঙ্গে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে তুরস্কের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এরদোয়ানের কার্যালয় নেতানিয়াহুর ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক কৌশলের’ নিন্দা করে। একই সঙ্গে তুরস্ককে ‘নতুন হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের’ জন্য ইসরাইলি সরকারের প্রচেষ্টারও তীব্র সমালোচনা করা হয়।