কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার চারজন ও সাভারের একজনের লাশ যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দেশে পৌঁছেছে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার বিকাল ৫টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে পৌঁছায় বলে জানান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ফেরদৌস হোসেন খান।
তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পেট্রাপোল শূন্যরেখায় লাশগুলো ভারতের ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাংলাদেশি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে তোলা হয়।
এ সময় বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি, ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানা পুলিশের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে কলকাতা নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনে নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি।
এর মধ্যে এদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা আলিমুজ্জামান সাজুর লাশ দেশে পৌঁছেছে; চিকিৎসা নিতে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। আর বিকালে বাকি পাঁচজনের লাশ এল বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে।
তারা হলেন- কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) এবং সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার ৩৭ বছর বয়সি আহম্মেদ বাবু।
মৃতদেহ সংগ্রহের জন্য শুক্রবার বিকাল থেকেই বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন বাবুর স্বজনরা।
লাশ নিতে আসা বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন বলেন, ‘‘সোমবার রাতে ব্যবসায়িক কাজে কলকাতা যান বাবু। সেখান থেকে পরিবারের সাথেও কথা হয় কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’’
বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে নিহতের খবর জানানো হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নিহতের ছবি পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুকে শনাক্ত করা হয়।
মনির হোসেন বলেন, ‘‘ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাবুর মৃতদেহ পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।’’
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজনের মৃতদেহও বেনাপোল দিয়ে দেশে এসেছে। মৃতদেহ সঙ্গে করে নিয়ে দেশে ফেরেন তার শ্যালক ফিরোজ হাসান।
কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও কাঞ্চন নন্দীও এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন।
এদিকে কুষ্টিয়া থেকে আসা দেবাশীষের সহকর্মী সাংবাদিক ও স্বজনেরা বেনাপোল থেকে লাশ গ্রহণ করেছেন।
স্বজনরা জানান, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মৃতদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আর দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীর লাশ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।
ভারতের মাটিতে অগ্নিকাণ্ডে স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে এখন বইছে শোকের মাতম; দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিয়জনদের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন স্বজনরা।