মূল সংবাদে যান
২৫ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

দ্বিতীয়বার ক্যানসারে আক্রান্ত সামিয়া আফরিন, চুল ছোট করে দিলেন সাহসের বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট ৩১ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ
দ্বিতীয়বার ক্যানসারে আক্রান্ত সামিয়া আফরিন, চুল ছোট করে দিলেন সাহসের বার্তা

দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও তিন মাস আগে তাঁর শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। এবার ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। পরীক্ষায় এটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় এখন কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে তাঁকে।

রোববার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্যানসারের সঙ্গে নতুন এই লড়াইয়ের কথা জানান সামিয়া।

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে—চিকিৎসকের কাছ থেকে আগেই এমন সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ না করে নিজেই চুল ছোট করে নতুন লুক নিয়েছেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে জানান, কঠিন সময়টাকেও নিজের মতো করে গ্রহণ করতে চান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে সামিয়া লেখেন, “মাত্র তিন মাস আগে আমার শরীরে দ্বিতীয় ম্যালিগন্যান্ট ধরা পড়ে—ওভারিয়ান ক্যানসার। সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার করতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত, এটি ছিল হাই-গ্রেড কার্সিনোমা, তাই এখন আমাকে কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।”

এবারই প্রথম কেমোথেরাপির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রথমবার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে।

তিনি লেখেন, “গত পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। প্রথমবার কেমো নিতে হয়নি, ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চলেছিল। এবারের অভিজ্ঞতা তাই আমার কাছে একটু অন্য রকম।”

চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ডাক্তার বলেছেন, কেমোর কারণে চুল পড়ে যেতে পারে। তাই বিষয়টাকে নিয়ে মন খারাপ না করে বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবকিছু নিয়ে মন খারাপ করে তো লাভ নেই—সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারাটাই আসল।”

ক্যানসারের চিকিৎসার কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তাঁর লেখায় উঠে এসেছে। একই পথ পাড়ি দেওয়া মানুষরাই এর কষ্ট সবচেয়ে ভালো বোঝেন বলে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “যাঁরা এই পথের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরাই জানেন—এই লড়াইটা কতটা কঠিন। আমি সত্যিই চাই না, আমার কাছের কোনো মানুষকে কখনো এমন একটা যাত্রার মধ্য দিয়ে যেতে হোক।”

সবশেষে সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, “আল্লাহ যেন সবকিছু সহজ করে দেন, আগেরবারের মতো এবারও যেন আমার শক্তিটা ধরে রাখতে পারি এবং খুব শিগগিরই আমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যেতে পারি।”

২০২২ সালে শুরু হয়েছিল ক্যানসারের লড়াই সামিয়া আফরিনের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় ২০২২ সালে। ওই বছরের এপ্রিলে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে তাঁর শরীরে ক্যানসারের জীবাণুবাহী টিউমার ধরা পড়ে। এরপর স্বামীকে নিয়ে দ্রুত সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যান তিনি।

পরে বিস্তারিত পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি চতুর্থ ধাপের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। তখন ক্যানসার ফুসফুস ও লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রথম দিকে অস্ত্রোপচারসহ এমন কিছু চিকিৎসাপদ্ধতির কথা জানানো হয়েছিল, যাতে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসতে পারত। একপর্যায়ে চিকিৎসা না নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।

পরে সিঙ্গাপুরের একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে ইমিউনোথেরাপির পরামর্শ দেন। ২১ দিন পরপর নিতে হতো সেই চিকিৎসার ডোজ। ব্যয়বহুল হলেও শেষ পর্যন্ত সেই চিকিৎসাপদ্ধতিই বেছে নেন তিনি।

অসুস্থতাকে আড়াল করেই চলেছেন ইমিউনোথেরাপির প্রথম কয়েক মাস সহজ ছিল না। চিকিৎসার পর কখনো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়তেন যে কয়েক কদম হাঁটার শক্তিও থাকত না। তবু অসুস্থতাকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে চাননি তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “মানসিকভাবে ভাবতে চাইনি যে আমি অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে আমি এই কাজ করতে পারব না, সেই কাজ করতে পারব না—এটা ভাবতে চাইনি।”

চিকিৎসার মধ্যেও তিনি অফিস করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় গেছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে গেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবরও দীর্ঘদিন পরিবার ও খুব কাছের কয়েকজন ছাড়া অন্য কাউকে জানাননি।

দুই বছরের চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়ে আসে। চিকিৎসকেরা তখন আশাবাদী ছিলেন, ক্যানসার আর ছড়াচ্ছে না।

তখন তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “অলৌকিক হোক বা ওষুধের মাধ্যমে হোক, ক্যানসারের জীবাণুটা আর ছড়াচ্ছে না। যা আছে, তা-ও সুপ্ত অবস্থায় আছে।”

সেই স্বস্তির সময় পেরিয়ে এখন তাঁর সামনে নতুন লড়াই। এবার ইমিউনোথেরাপির বদলে কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হলেও আগের মতোই মানসিক শক্তি ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান সামিয়া আফরিন।