ভৈরবে বাজারের নাম রাখা নিয়ে আবারো ২ গ্রামের সংঘর্ষ, হাসপাতালে ২০ জন
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে ফের দুইপক্ষের মধ্য সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনায় আকবরনগর বাজারসহ মিরারচর গ্রামে কমপক্ষে ১৫টি দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে।
খবর পেয় পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে নজরুল (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০), স্বপন (২৮), জাবেদা বেগম (৬০), আক্কেল আলী (৪১), মধু মিয়া (৪৫), হেকিম মিয়া (১৬) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত মাসের ২৮ জুলাই ভৈরবের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসী বাজারের নামকরণ নিয়ে প্রথম দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওইদিন মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নামে দুইজন নিহত হয়। এঘটনার পর ৩০ জুলাই মিরারচরের বাসিন্দারা আকবরনগরের দুইশ’ বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর করে। হত্যার ঘটনায় আকবরনগরের ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অন্যদিকে, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনায় মিরারচরের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়।
ওই ঘটনার পর রোববার সকালে আকবরনগর গ্রামের ৪১ জন আসামি কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এখবর ভৈরবে পৌঁছলে বিকেলে মিরারচর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকবরনগর বাজারে হামলা চালায়। এসময় আকবরনগর গ্রামের লোকজনও পাল্টা হামলা করে। এতে ২০ জন আহত হয়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বলেন, আকবরনগর বাজারের নামকে কেন্দ্র করে মিরারচর গ্রামবাসী অযথা দ্বন্দ্ব করছে। আমার কথা তারা শুনে না, তাই আমি সেখানে আর যাই না।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহবুবুর রহমান জানান, ‘বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের দ্বন্দ্বে একমাস আগে দু’টি খুন হয়। এক পক্ষ আজ রোববার আদালতে জামিন না পাওয়ায় অপরপক্ষ সুযোগ বুঝে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে আট রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, ‘দুই গ্রামের মানুষই উচ্ছৃঙ্খল। কেউ কারো কথা মানেনা, শুনেনা। স্থানীয় বিএনপির নেতারা আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহযোগিতা করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।’