মিঠামইনে আগুনে পুড়ল বসতঘর ও সারের গুদাম, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকে লাগা আগুনে দুই তলা টিনশেডের একটি বসতঘর ও সারের গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের ১৫টি কক্ষসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় আশপাশের প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল ও সম্পদ আগুনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে মিঠামইন উপজেলার সদর ইউনিয়নের গিরিশপুর এলাকায় নূরু মিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে নূরু মিয়ার বাড়ির একটি কক্ষ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। দুই তলা টিনশেড ভবন হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একই ভবনে বসতঘরের পাশাপাশি সারের গুদাম থাকায় আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের মতো করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। খবর পাওয়ার পরপরই একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পার্শ্ববর্তী ইটনা ও অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস স্টেশনেও খবর দেওয়া হয়। পরে ওই দুই স্টেশনের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।
মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার রুস্তম আলীর নেতৃত্বে তিনটি ইউনিট একযোগে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরেজমিনে দেখেন। স্থানীয় সংবাদ
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘দুপুরের দিকে হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা কয়েকজন মিলে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই।’
ব্যবসায়ী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর খুব ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাড়ির পাশেই আরও বসতঘর ও বিভিন্ন মালামাল ছিল। আগুন সেদিকে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত এসে কাজ শুরু করায় আগুন আর আশপাশে ছড়াতে পারেনি।’
প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনের তাপে টিনগুলো গরম হয়ে যাচ্ছিল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আগুন নেভানোর পাশাপাশি আশপাশের মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেন। তাদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক নূরু মিয়া বলেন, ‘আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, তা বুঝে ওঠার আগেই ঘরের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরে যায়। অনেক মালামাল বের করে নেওয়ার সুযোগ পাইনি। বসতঘর ও সারের গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডিংম্যান তানভীর হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে দুই তলা টিনশেডের একটি বসতঘর ও সারের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটিতে মোট ১৫টি কক্ষ ছিল। মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় আশপাশের অনেক মালামাল ও স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুনে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগুনে একটি বসতঘর ও সারের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় আশপাশের আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’