বনানী ধর্ষণ মামলার তদারক কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘বনানীর দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ও ফরেনসিকসহ বিভিন্ন আলামতের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। এগুলো হাতে পেলেই অভিযোগপত্র তৈরির কাজ চূড়ান্ত করা হবে।’
যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় আরও বলেন, ‘অভিযোগপত্র দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য যে মূল এভিডেন্স দরকার সেটা দাঁড়িয়ে গেছে। মামলা প্রমাণ করতে গেলে শুধু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হয় না। এর জন্য সাক্ষী ও দালিলিক প্রমাণও হাজির করতে হয়। এজন্য আরও কয়েকজন ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের কাজ চলছে।’
তদন্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান,মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে মাত্র একজন আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।বাকি চার জন আসামির বিরুদ্ধেই ধর্ষণের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। যে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি, তাকে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা আরও একাধিক ব্যক্তি তাদের সাক্ষ্যে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণণা দিয়েছেন পুলিশের কাছে। তারাও সাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হবেন এই মামলার অভিযোগপত্রে।
এছাড়া রেইনট্রি হোটেলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও সাক্ষীর তালিকায় রাখা হবে। তাদের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। ওই রাতে আরও যারা নির্যাতন ও নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন, তারাও এই মামলার সাক্ষী হচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করছে।’ মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদনের পাশাপাশি পরীক্ষাকারী চিকিৎসকের মতামতও এই মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।