মূল সংবাদে যান
১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ার করুন

বিলুপ্তির পথে সিরাজগঞ্জের বাঁশ ও বেত শিল্প

Muktijoddhar Kantho ১০৪ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ
নাসিম বিন রিয়াদ, সিরাজগঞ্জ (উল্লাপাড়া) থেকে :

দেশে একসময় বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ছিল। দিন দিন সে স্থান চলে যাচ্ছে সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের দখলে। একদিকে বাঁশ ও বেতের উত্পাদন কমে যাওয়া, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক শিল্পের প্রসার এর অন্যতম কারণ।

তাছাড়া বাঁশ ও বেত উত্পাদনে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তেমন কোনো পরামর্শ বা উত্সাহ দেয়া হচ্ছে না। ফলে নানা কারণেই শিল্পটি হারিয়ে যাচ্ছে। জানা যায়, সিরাজগঞ্জে একসময় বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত ছিল। জেলার বেলকুচি, কামারখন্দ, চৌহালী রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় ছিল প্রচুর বাঁশঝাড়। বেতের আবাদও হতো প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র আর দেখা যায় না। কিছু জায়গায় বাঁশঝাড় থাকলেও পরিমাণে খুবই কম।

এ অবস্থায় বাঁশ-বেতের পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িতরা টিকে আছেন কোনো রকম। অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে তাদের পূর্বপুরুষের এ পেশা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় ঘরবাড়ি তৈরি করতে বড়বাসা জাতের ও আসবাব তৈরিতে তল্লা জাতের বাঁশের ব্যবহার হতো। গ্রামে একটি ঘর তৈরি করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাঁশ লাগত। আর এখন বাড়ি তৈরিতে বাঁশের জায়গা দখল করেছে সিমেন্টের খুঁটি। তাছাড়া বেত ও বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রীর দেখা মিলত প্রায় প্রতিটি ঘরেই। গ্রামগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু সামগ্রী ছিল বাঁশ ও বেতের তৈরি। এর মধ্যে কুলা, চালনি, খাঁচা, চাটাই, ডোল, ডালা, খাদি, ধামা, ইলো, খাটিয়া চেয়ার, পাখা, টোপা, চাটাইসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দারুণ কদর ছিল। যে কারণে এসব সামগ্রী তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল বহু মানুষ। কিন্তু বাঁশ ও বেত কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা

এ শিল্পকে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্বল্পতার কারণে বাঁশ ও বেতের দাম বেড়েছে অনেক। ফলে এর থেকে তৈরি পণ্যের দামও পড়ছে বেশি। অন্যদিকে সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে মানুষ প্লাস্টিক পণ্য বেশি পছন্দ করছে। সিরাজগঞ্জে কিছু পরিবার এখনো এ শিল্প টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় নিয়োজিত। একসময় বাঁশ দিয়ে তৈরি কুলা, চালন, ডালিসহ নানা পণ্য তৈরি করে বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন এসব পণ্যের তেমন চাহিদা নেই।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৩০-জুলাই–২০১৭ইং/নোমান