মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

কার্যকরের ‘৫ মিনিটের’ মধ্যে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন!

ডেস্ক রিপোর্ট ৬৭ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মধ্যেই আর্মেনিয়া-আজারবাইজান পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সই হওয়া চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। শঙ্কা বাড়ছে চুক্তি ভেস্তে গেলো কি না?

মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা আলোচনার পর চুক্তিতে একমত হয় দুই পক্ষ। সমঝোতা হয়, নার্গোনো-কারাবাখে আদিবাসী আর্মেনীয় বাহিনী সংঘাত বন্ধ করবে। আজারবাইজানের বাহিনী আটক এবং যুদ্ধে নিহতদের মরদেহ ফেরত দেবে।

স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে চুক্তিটি কার্যকর হয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ‍তোলে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আজারবাইজান তাদের সাধারণ মানুষের বসতি লক্ষ্য করে গোলা হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে আর্মেনীয় আদিবাসী বাহিনী জানিয়েছে, নার্গোনো-কারাবাখে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে আজারবাইজানের বাহিনী। চুক্তি কার্যকরের মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় তারা।

আজারবাইজান জানিয়েছে, বিতর্কিত এলাকার শত্রু বাহিনী আজারবাইজানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। তবে উভয়পক্ষ জোর দিয়ে সামরিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নার্গোনো-কারাবাখ আজারবাইজানের ভূখণ্ড।

আর্মেনিয়ার আদিবাসীরা অঞ্চলটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে ১৯৯০ সালের ভয়াবহ যুদ্ধের পর আজারবাইজানের শাসন অস্বীকার করে স্থানীয়রা। আর্মেনিয়ার সহায়তা নিজেদের মতো করে প্রশাসন পরিচালনা করে আসছিল তারা।

আল জাজিরার বার্নার্ড স্মিথ নার্গোনো-কারাবাখারের স্টেপেনকোর্ট থেকে জানান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে। তবে তা কোন পর্যায়ের লঙ্ঘন তা তাৎক্ষণিক পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।

আজারবাইজান থেকে আল জাজিরা প্রতিনিধি সিনেম কোসেগলু জানান, যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায়নি আজারবাইজানের সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের দাবি, ৩০ বছরে প্রথমবারের মতো কারাবাখে ভালো অবস্থানে আজারবাইজান। তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি শুধু আর্মেনিয়ার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

যদিও এক বিবৃতিতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো ভেস্তে যায়নি। রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের জন্য বিবদমান পক্ষগুলো কাজ করছে।

২৭ সেপ্টেম্বর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। শুক্রবার মস্কোর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে আলোচনায় বসে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান। গেলো কয়েকদিনের সংঘাতে তিন শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে উভয়পক্ষের সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িত উভয় দেশ। এসময়ে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

সংঘাতে লিপ্ত দু’পক্ষে আলোচনায় বসাতে মধ্যেস্থতাকারী রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার সকালে বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংঘাত বন্ধে একমত হয়েছে উভয়পক্ষ। রেড ক্রস চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীর বিষয়ে আরো সুনির্দিষ্ট আলোচনা এবং ঐক্যমত জরুরি। আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান স্থিতিশীল শান্তি আলোচনায় একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নার্গোনো-কারাবাখ সংঘাত নিরসনে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত মিনস্ক গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় সে সব আলেচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। আর্মেনিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। দেশটিতে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে মস্কোর। এসব কারণে আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক পল স্ট্রোনস্কি বলেন, নার্গোনা-কারাবাখ রাশিয়ার জন্য জটিল একটি বিষয়। অন্যদিকে সিরিয়া, লিবিয়ার সঙ্গে নার্গোনা-কারাবাখ তুরস্কের সঙ্গে জড়িত। ওই অঞ্চলে ছায়াযুদ্ধের একটি বাস্তবিক ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।