আফগানিস্তান-ইরান সীমান্ত জেলা দখল করল তালেবান
আফগানিস্তান-ইরান সীমান্ত ক্রসিংসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি জেলার দখল নিয়েছে তালেবান। আফগানিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, দেশজুড়ে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়ে এগোচ্ছে তালেবান আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরালো করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি।
এদিকে, তালেবান হামলার জের ধরে দুইটি স্থলবন্দর থেকে পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ইরানের শুল্ক বিভাগ। ‘দোগারুন’ ও ‘মাহিরুদ’ নামে এই স্থলবন্দর দুইটি ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কিমেনিস্তান, চীন ও পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালায় তালেবানরা।
আফগানিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তালেবান যোদ্ধা ও আফগান সরকারের সদস্যদের মধ্যে উজবেকিস্তানের সীমান্তবর্তী বাল্খ প্রদেশে খণ্ডযুদ্ধ চলছে। হেরাত প্রদেশে ইরানের সঙ্গে ইসলাম কঅলা সীমান্ত ক্রসিং তালেবান যোদ্ধারা দখল করে নিয়েছে। হামলার মুখে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কাস্টমস কর্মকর্তারা ইরানে পালিয়ে গেছেন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে জানতে হেরাত প্রদেশের গভর্নর ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে। কিন্তু, গভর্নর ও পুলিশ প্রধান কার্যালয়ের কেউ ফোন ধরেনি।
ইরানের সরকারি টেলিভিশন আল-আলালাম টিভি জানায়, তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে আফগান সেনারা সীমান্ত পার হয়ে ইরানে প্রবেশ করেছেন। তবে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারিক আরিয়ান দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ইসলাম কঅলা সীমান্ত ক্রসিং এখনো আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে।
আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এও দাবি করেছেন, তালেবানের কাছ থেকে তারা ইরান সীমান্তবর্তী দুটি স্থলবন্দরের নিয়ন্ত্রণ শিগগিরই ফিরিয়ে নেবেন। তারা আরও দাবি করছেন, ‘কৌশলগত কারণে’ তারা এসব বন্দর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এদিকে, দোগারুন ও মাহিরুদ স্থলবন্দরে পণ্য না পাঠানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। দুটি স্থলবন্দরেই তালেবান বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়ে এসব বন্দরের আফগান অংশ দখল করে নিয়েছে বলে খবর পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।