ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সৌদির
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। পবিত্র রমজান মাসে যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের আহ্বানের পর মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বুধবার (৩০ মার্চ) থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করতে এবং ইয়েমেনের ভয়াবহ মানবিক সংকট দূর করতে জাতিসংঘ সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইরান সমন্বিত হুতি আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করছে, যারা ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধে লিপ্ত। সাত বছরের পুরনো এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে লড়াই করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কারণ, এই যুদ্ধ প্রাণ নিয়েছে হাজারো নিরীহ মানুষের, আর কয়েক লাখ মানুষকে নিয়ে গেছে অনাহারের দ্বারপ্রান্তে।
জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকির এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএর খবরে বলা হয়েছে, ‘জোটের যৌথ বাহিনীর কমান্ড ইয়েমেনের অভ্যন্তরে বুধবার সকাল ৬টা থেকে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।’
এদিকে হুতি নেতা মোহাম্মদ আল-বুকাইতি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ইয়েমেনে অস্ত্রের জোরে অবরোধ দেওয়া হয়েছে। এই অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে, সৌদি জোটের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা অর্থহীন হবে। কারণ, এই অবরোধ ভাঙার জন্য আমাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জেরে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট দেয় মোট ১১টি দেশ। অন্যদিকে, বাকি চার কাউন্সিল সদস্য আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো, ব্রাজিল ও নরওয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ইয়েমেনের সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো জোট এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারীরা ইরানের বিরুদ্ধে হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ তুলে আসলেও বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে তেহরান এবং হুতি গোষ্ঠী।