মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

‘দেবে যাচ্ছে’ হিমালয়ের জোশীমঠ শহর, বাড়িঘরে ফাটল

ডেস্ক রিপোর্ট ১১২ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

বড়সড় ভাঙনের মুখে ভারতের উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠ শহর। সেখানে ক্রমশ দেবে যাচ্ছে মাটি। ফাটল ধরছে বাড়িঘর থেকে রাস্তাঘাটে। ৫৬১টি বাড়িতে দেখা দিয়েছে ফাটল। যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে বিপর্যয়। ইতিমধ্যেই সেখানে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ৬০০ পরিবারের।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জোশীমঠ উত্তরাখণ্ডের ছোট্ট একটি শহর। তবে বিগত দুই দশক ধরে এই শহরে যেমন জনসংখ্যা বেড়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নির্মাণকাজ। ইন্দো-চিন সীমান্তের কাছে অবস্থিত হওয়ায়, এখানে বিপুল পরিমাণ সেনাও মোতায়েন থাকে, রয়েছে সেনা ক্যাম্প। হিমালয় অভিযানে যারা যান, তাদের বেস ক্যাম্প হয় এই জোশীমঠ। কিন্তু বিগত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে জোশীমঠ রয়েছে তার ভাঙনের কারণে।

দীর্ঘদিন ধরেই জোশীমঠের বাসিন্দারা দাবি করছিলেন, শহরের ভিত বসে যাচ্ছে, বাড়িতে ফাটল ধরছে। সম্প্রতিই বিশেষজ্ঞের একটি দল জোশীমঠে সমীক্ষা করেন। তারা দেখতে পান, এলাকাবাসীর দাবি সম্পূর্ণ সত্য, জোশীমঠের ভিত সত্যিই মাটিতে বসে যাচ্ছে। যেকোনও মুহূর্তেই বড় কোনও বিপর্যয় ঘটতে পারে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিজেও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে করতে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চামোলি জেলার বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। পাশের আউলি শহরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বিপর্যয়পূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। বিপর্যস্তদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে আনা হয়েছে হেলিকপ্টার। জোশীমঠই নয়, এই আবহে প্রশাসনের তরফে আউলিতে গাড়ি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে চার ধাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কিছু অংশের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তপোবন–বিষ্ণুগড়ে ৫২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরির কাজও।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। । সেই দলগুলো গিয়ে ফাটল ধরা বাড়িতে গিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে। নির্বিচারে গাছ কাটা ও পাহাড় কেটে নির্মাণকাজের জেরেই আজ এই পরিস্থিতি বলে মত অনের বিশেষজ্ঞর।

জোশীমঠ নিয়ে এখন উদ্বেগ তৈরি হলেও, বিপদঘণ্টা বেজে গিয়েছিল অনেক আগেই। বিজ্ঞানী থেকে জিওলজিস্ট, অনেকেই জোশীমঠের অবস্থান ও নির্মাণকাজের জন্য কী কী বিপদ ঘটতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন।

প্রথমবার জোশীমঠ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল ১৮৮৬ সালে। এরপরে ১৯৭৬ সালে সরকারের নিয়োগ করা মিশ্র কমিশনের রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, জোশীমঠের অবস্থান অদ্ভুত। প্রাচীন যুগে এক ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। সেই ধ্বংসস্তূপের ঠিক উপরেই তৈরি হয় জোশীমঠ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জোশীমঠের ভিত দুর্বল। এছাড়াও লাগাতার নির্মাণকাজ, হাইড্রো প্রকল্প ও জাতীয় সড়ক নির্মাণের কারণে জোশীমঠের ভিত ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

জিওলজিস্টদের মতে, সিসমিক জোন ৫-এর উপরেও অবস্থিত জোশীমঠ। ফলে এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ। তাদেরদের আশঙ্কা, যেভাবে ফাটল ধরছে এবং মাটি বসে যাচ্ছে, তাতে শুধু জোশীমঠই নয়, উত্তরাখণ্ডের একাধিক শহরই টিকে থাকতে পারবে না। বড় কোনও বিপর্যয় ঘটার আগেই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।