মদিনায় মহানবী (সা.) এর মসজিদ হিসেবে খ্যাত মসজিদে নববীর কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার ইফতারের সময় মসজিদের পার্কিং এলাকার প্রধান নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলা হয়।
নিহতদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী এবং দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলে সৌদি আরবের টেলিভিশন স্টেশন আল আরাবিয়া জানায়।
মক্কার কাবা শরীফের পরে মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত মসজিদে নববীর নিরাপত্তা চৌকির কাছে সন্ধ্যায় একজন আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এ হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের হাতে আসা একটি ছবিতে বিস্ফোরণে দগ্ধ ও রক্তাক্ত একজন ব্যক্তিকে হাসপাতালের স্ট্রেচারে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ছবিতে দেখা যায়, মসজিদে নববীর নিরাপত্তা চৌকির কাছে একটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। তা থেকে ফুলকি ছড়িয়ে পড়ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা একটি ভিডিওতে দুজন নিরাপত্তা কর্মীকে মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখা যায়।জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটে হামলাচেষ্টার দিনই মদিনায় এই আত্মঘাতী হামলা হয়।
এদিন সন্ধ্যায় কাতিফ নামে সৌদি আরবের আরেকটি শহরে শিয়া মসজিদ লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা হয়েছে।
মদিনায় হামলার কাছাকাছি সময় পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাতিফে একটি শিয়া মসজিদের কাছে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে একজনের খণ্ড বিখণ্ড মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ওই মৃতদেহ হামলাকারীর বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের কাছে বিস্ফোরণে এক আত্মঘাতী নিহত এবং দুজন আহত হন।
রয়টার্স বলছে, সৌদি আরবে কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম বিদেশিদের লক্ষ্য করে জেদ্দায় এই হামলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এর দায় স্বীকার করেনি।
২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে সৌদি আরবে আইএসের ধারাবাহিক বোমা ও বন্দুক হামলায় অনেকে নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিয়া মতাবলম্বী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
গত বছর কাতিফে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার পর ওই এলাকার মসজিদগুলো ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ায় পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
বছরখানেক আগে একটি মসজিদে আরেকটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৫ জন নিহত হয়।