আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জোড়া বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ হয়েছে।
বিশেষ করে কারাদায় বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এখনো মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৫১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনো ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। হামলায় আরো অন্তত ২শ’জন আহত হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে,রোববার ভোররাতে কারাদায় চালানো হামলাটি ছিল আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা।
এরপর বাগদাদের উত্তরাঞ্চলে একটি শিয়া এলাকার আল শাব বাজারে ভোররাতের দিকে আরেকটি বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ২ জন নিহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা।
ইন্টারনেটে আইএসের সমর্থকদের প্রচার করা একটি বিবৃতিতে কারাদায় চালানো হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ভোররাতে সেহরি খাওয়ার ব্যস্ত সময়ে রেঁস্তোরায় গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী হামলাকারী। এতে প্রধান সড়কে বড় ধরনের একটি আগুনের কুণ্ডুলি তৈরি হয়।
রয়টার্সে প্রকাশিত ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণে অন্তত চারটি ভবন ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা আংশিক ধসে পড়েছে। ভবনগুলোর মধ্যে একটি শপিং মলও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শপিংমলটিই হামলার লক্ষ্য ছিল।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী আইএস জঙ্গিদের দখল থেকে ফাল্লুজা শহর পুনরুদ্ধার করার এক সপ্তাহ পর এ হামলা দুটি হল। ফাল্লুজার ঘাঁটি থেকে আইএস জঙ্গিরা বাগদাদে বোমা হামলা চালাত বলে জানিয়েছিল ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
ইরাকে ও সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে চাপের মধ্যে আছে আইএস।
তবে চাপের মধ্যে থাকলেও জঙ্গিগোষ্ঠীটি এখনও দেশ দুটির বিশাল এলাকা দখল করে রেখেছে। গোষ্ঠীটির দখলকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলও আছে।
এ বছর ইরাকে এটি সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী ফাল্লুজা শহর আইএসের কাছ থেকে পুনর্দখলের এক সপ্তাহ পর এ হামলা হল।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গতমাসে ইরাকে আইএস’ এর শক্তঘাঁটি ফাল্লুজার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরাকি বাহিনী। ওই সময় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি বলেছিলেন, ফাল্লুজা থেকেই বাগদাদে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি হামলা চালায় আইএস।
হামলা বন্ধে তিনি পশ্চিমের শহরটি থেকে আইএস নিমূর্লের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। একমাস অভিযানের পর ২৬ জুন ইরাকি বাহিনী ফাল্লুজা পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দেয়।
ফাল্লুজা পুনরুদ্ধারের পরও বাগদাদে বোমা হামলার ঘটনায় আবাদিকে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ভোরে বোমা হামলার পর আবাদি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে পাথর ও পানির বোতল ছুঁড়ে মারে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বাগদাদের নিরাপত্তা বিশ্লেষক জসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, “আইএস জঙ্গিরা ফাল্লুজায় গোহারের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এখন এ ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালানোর চেষ্টা করছে।”
“শুধুমাত্র একটি এলাকা থেকে বোমা হামলা পরিচালিত হত, এমন চিন্তা করা সরকারের ভুল ছিল। বরং ‘স্লিপার সেল’ সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে এবং তারা স্বাধীনভাবেই হামলা পরিচালনা করছে।”
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ০৪-০৭-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান