আন্তর্জাতিক েডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ইউকে ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি (ইউকেআইপি) প্রধান নাইজেল ফারাজ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
লন্ডনে সোমবার দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ফারাজ বলেন, “আমার রাজনীতির লক্ষ্য ছিল যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের করে আনা। আমি মনে করি আমার কাজ আমি করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমার করার নেই।”
“ইউকেআইপি’র নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এটিই উপযুক্ত সময়।”
ফারাজ ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর একবার দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার সমর্থকদের চাপের মুখে তিনি ফিরে আসেন।
এবার আর কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
ফারাজ বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি আর আমার মত পরিবর্তন করব না।”
“ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণভোটের সময় আমার শ্লোগান ছিল ‘আমি আমার দেশকে ফেরত চাই’। আর এখন আমার শ্লোগান হলো ‘আমি আমার জীবন ফিরে পেতে চাই’।”
বর্তমানে রাজনৈতিক দিক দিয়ে ইউকেআইপি খুবই ভালো অবস্থানে আছে বর্ণনা করে ফারাজ আরও বলেন, “একসময় ইউকেআইপি’র নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু এটাতো করতেই হত।”
“এখন দলের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় কর্মপরিকল্পনা হল লেবার ভোটারদের দলে টানা।”
তবে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে দেখতে চান? এমন প্রশ্নের জাবাবে ফারাজ বলেন, তিনি সুনির্দিষ্ট করে কাউকে সমর্থন করছেন না। “হয়ত সেরা পুরুষ বা নারী জিতবেন।”
যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালানো প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ২৪ জুন গণভোটের রায় প্রকাশের দিনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ‘ব্রেক্সিট’ অর্থাৎ, যু্ক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের পক্ষে একজন প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন ফারাজ।
মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে ইউকেআইপি থেকে জেতা একমাত্র এমপি ডগলাস কার্সওয়েলের সঙ্গে ফারাজের মতবিরোধ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফারাজ পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর কার্সওয়েল টুইটারে হাসি মুখের একটি ‘ইমোজি’ পোস্ট করেন।
এ প্রসঙ্গে ফারাজ বলেন, “আমি কারও সঙ্গে (আমার) কোনও ধরনের বিরোধের খবরকে মাটি চাপা দেব।”
ব্রিটেনে ইউরোপ বিরোধী ডানপন্থি এই রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে।
বর্তমানে দলটির একজন সদস্য রয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।
এছাড়া, হাউস অব লর্ডসে ৩ জন সদস্য এবং সারা দেশে ৪৮৮ জন কাউন্সিলর রয়েছেন।
তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউকেআইপি ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় দল হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেখানে দলটির ২২ জন এমপি রয়েছে।
ফারাজ বলেন, তার দল ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগকে বিপথগামী হতে দেবে না এবং এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাবে।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/ ০৪-০৭-২০১৬ ইং/মো: হাছিবুর রহমান