১৬ বছরের অনশন ভাঙার পর শর্মিলা বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী হতে চাই
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ
দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ মঙ্গলবার অনশন ভাঙলেন ইরম চানু শর্মিলা। এর আগে ২৬ জুন অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন তিনি।
অনশন ভাঙার পর বক্তব্যে শর্মিলা বলেন, আমি রাজনীতিতে আসছি কারণ এর মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের অধিকার রক্ষা করব। আমি মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হতে চাই।
২০০০ সালের ২ নভেম্বর মালোম বাসস্ট্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মনিপুরে ১০ জন নিহত হয় । ওই নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মণিপুর থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (আফস্পা) প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন শুরু করেন শর্মিলা। তারপর থেকে নানা ঝড়ঝাপটার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। নাক দিয়ে বিশেষ টিউবের সাহায়্যে তাকে এতোদিন তরল পদার্থ খাওয়ানো হয়। আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হলেও, তার অনশন কেউ ভাঙাতে পারেনি।
তাকে বারবার আটক করা হয়। অনাহারে শরীর ভেঙে যাওয়ায় তাকে বন্দি অবস্থায় হাসপাতালে রাখা হয়। বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়েও অটূট ছিল তার অনশন। প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন শর্মিলা। এই প্রতিবাদের জন্যই তাকে মণিপুরের ‘লৌহ নারী’ বলে ডাকা হয়ে থাকে।
গত ২৬ জুন অনশন প্রত্যাহার করে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত জানান ইরম শর্মিলা। তিনি বলেন, এবার থেকে অনশন নয়, রাজনীতির ময়দানে নেমে আফস্পা প্রত্যাহার নিয়ে তিনি লড়াই চালাবেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের প্রেমিক ডেসমন্ড কুটিনহোকে বিয়ে করে ঘর বাঁধার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শর্মিলা ইরম আজ ইম্ফলের স্থানীয় আদালতে অনশন ভাঙেছেন। বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর আদালত তাকে মুক্তি দেন। এরপরই সমর্থকদের সামনে অনশন ভাঙেন তিনি।
এদিকে শর্মিলার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, তারা শর্মিলাকে বাড়িতে অভ্যর্ত্থনা জানাতে প্রস্তুত। শর্মিলার বড় ভাই ইরম সিংহজিৎ বলেন, আমরা সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মঙ্গলবার সে বাড়ি ফিরবে না। তবে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তার জন্য পৃথক ঘরেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।