মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পা পিছলে পাকিস্তানে মেয়ে ও মা-বাবার মৃত্যু

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৪৬ বার পঠিত ২ মিনিটের পাঠ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানে সেলফি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে মেয়ে ও মা-বাবা ডুবে মারা গেছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত কুনহার নদীর বিসিয়ান গ্রামের অংশে মঙ্গলবার মেয়ে ও মা-বাবা ডুবে মারা যান। ১১ বছর বয়সি মেয়ে সেলফি তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পা পিছলে নদীতে পড়ে যায়।

ডন অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কুনহার নদীটি গভীর, পাথরময় এবং খরস্রোতা। পাহাড়ি অঞ্চলের এ নদীতে বিশেষভাবে তৈরি ভেলায় ভেসে ঘোরা একটি জনপ্রিয় বিনোদন।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আরশাদ খান জানিয়েছেন, সাফিয়া আতিফ নামের মেয়েটি নদীর কিনারে সেলফি তোলার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়।’ এ ঘটনা অন্য পর্যটকরা দেখেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সাফিয়া নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে তার মা সাজিয়া আতিফ ঝাপ দেন। কিন্তু স্রোত তাকে টেনে নেয়। মেয়ে ও স্ত্রীকে ডুবে যেতে দেখে তাদের উদ্ধারে ঝাপ দেন আতিফ হুসাইন। কিন্তু তার ভাগ্যেও একই পরিণতি হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা আরশাদ খান জানিয়েছেন, মেয়ে ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আতিফ হুসাইন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

আতিফ হুসাইন ও তার স্ত্রী সাজিয়া আতিফ দুজনেই পাঞ্জাবের চিকিৎসক। ছেলেমেয়েদের নিয়ে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। অন্য দুই সন্তান- নয় বছর বয়সি এক মেয়ে এবং ছয় বছর বয়সি এক ছেলে তাদের সঙ্গে ছিল। দুর্ভাগ্য- তাদের চোখের সামনেই বাবা-মা ও বড় বোন নদীতে ডুবে মারা গেল।

আরশাদ খান জানিয়েছেন, আতিফ হুসাইনের ছোট দুই সন্তান নিরাপত্তামূলক হেফাজতে আছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছালে তাদের হাতে এ দুজনকে তুলে দেওয়া হবে।

এ দুর্ঘটনার কথা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নদীর কিনারে না যেতে সতর্কতামূলক বার্তা লেখা সাইনবোর্ড দেওয়া আছে। এই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো জানিয়েছেন, প্রতি বছর নদীর এ অংশে ডুবে কয়েক ডজন মানুষ মারা যায়।

লোকজন এখানে ছুটি কাটাতে, পিকনিক ও ভ্রমণে আসে। কিন্তু তাদের ঠিক ধারণা নেই, নদীর গভীরতা কতটা।