যুক্তরাষ্ট্রের এক শপিং মলে সন্ত্রাসী হামলায় ৫ জন নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে বন্দুকধারীর গুলিতে চার নারীসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় এই হামলা হয়। একজন ব্যক্তি বন্দুক নিয়ে হামলাটি চালিয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। হামলার পর পুলিশ আসার আগেই রাতের আঁধারে সে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তির ছবি প্রকাশের পর পুলিশ হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছে। এখনো পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি।
ওয়াশিংটন পুলিশের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বার্লিংটনের কাসকেইড শপিং মলের ম্যাকির স্টোর নামে একটি দোকানে ঢুকে এক বন্দুকধারী চার নারীসহ ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বার্লিংটন উত্তর সিয়াটল থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ওয়াশিংটন স্টেট টহল পুলিশের মুখপাত্র সার্জেন্ট মার্ক ফ্রান্সিস টুইটার অ্যাকাউন্টে সন্দেহভাজন হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে বলেছেন, একটি রাইফেল দিয়ে ওই ব্যক্তি হামলা চালিয়েছিল। তার হামলার উদ্দেশ্য, ভিকটিমদের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে কিছুই স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজে একজন যুবককে রাইফেল হাতে দেখা গেছে। খুব কাছ থেকেও ওই বন্দুকধারীকে স্পষ্ট দেখা যায়নি। টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সিস বলেন, বার্লিংটনের কাসকেইড মলের ওই বন্দুকধারী একজন হিস্পানিক বলে তাদের সন্দেহ। তিনি ধূসর রঙের পোশাক পরেছিলেন।
রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা রিক জনসন বলেন, এখন তাদের মাথায় বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ওই এলাকার কাছাকাছি লোকদেরও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মুখপাত্র ফ্রান্সিস আরো বলেন, মলটি ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। নিহত ও আহতদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আহত ব্যক্তিদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। মল এলাকার আশপাশে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে খুঁজছে একাধিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এদিকে সিয়াটলে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা এফবিআইয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, আর কোনো সম্ভাব্য হামলার তথ্য তাদের কাছে নেই। তারা গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করছে। ঘটনার পর ওয়াশিংটনের গভর্নর জে ইন্সলি টুইটার বার্তায় বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীকে খুঁজছে। বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে হামলার সময় সেখানে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আরমান্ডো পাতিনো নামে এক ব্যক্তি ম্যাকির স্টোরের কাছে টি-মোবাইলের একটি দোকানে কাজ করেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘কাজ করার সময় হৈচৈ শুনতে পাই। তখন আমি ম্যাকি স্টোরের দিকে তাকাতেই প্রথম গুলির শব্দ শুনি। এরপর দুই তিন জন লোক বন্দুক বলে চিত্কার করতে করতে দৌড়াতে শুরু করে। আমরা দোকানের মধ্যেই লুকিয়ে পড়ি। পরে পুলিশ এলে আমরা বেরিয়ে আসি।’ হামলার পর পুলিশ সারা রাত মলটিতে তল্লাশি চালায়। পুলিশের মুখপাত্র ফ্রান্সিস জানান, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বাসে করে নিকটবর্তী গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অপর এক বিপণি বিতানে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নয়জন আহত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বার্লিংটনের এ ঘটনা ঘটল। মিনেসোটার ঘটনায় হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী তত্পরতা ধরে নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এফবিআই।
মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম / ২৪-০৯-২০১৬ ইং/মোঃ হাছিব